জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে নীলফামারী জেলায় ৫ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর আবাদ হয়েছে ৫ হাজার ৫৮০ হেক্টর জমিতে। ধান আবাদে অব্যাহত লোকসান হওয়ায় এক বছরের ব্যবধানে সরিষার আবাদ বেড়েছে বলে মনে করছেন কৃষি বিভাগ।
জেলা সদরের খোকশাবাড়ী ইউনিয়নের ধোবাডাঙ্গা গ্রামের সরিষা চাষি লোকমান হোসেন বলেন, ‘এবার এক বিঘা জমিতে বারি-১৪ জাতের সরিষার আবাদ করেছি। বীজ রোপণের দুই-তিন মাসের মধ্যে সরিষা ঘরে তোলা যায়। এছাড়া খুব বেশি কষ্ট লাগে না। বেশি সারেরও প্রয়োজন হয় না। সার প্রয়োগের আগে ভালোভাবে একবার নিড়ানি দিলেই হলো।’
একই এলাকার রমজান আলী জানান, এক সময়ে নীলফামারীতে রের্কড পরিমাণ সরিষার আবাদ হতো। পরে সরিষার আবাদ থেকে সরে এসে ধান আবাদের প্রতি ঝুঁকে পড়েন কৃষক। ফলে এ অঞ্চলে প্রায় বিলুপ্ত হয়ে যায় সরিষা আবাদ। তবে বছরের পর বছর ধানে লোকসান হওয়ায় কৃষক এখন আবার সরিষা চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। জেলার প্রায় সব এলাকার বিস্তীর্ণ মাঠ জুড়ে এখন হলুদ আর সবুজের সমাহার।
সদরের কচুকাটা ইউনিয়নের দোনদরী গ্রামের সবুজ আলী বলেন, ‘ধান আবাদে কোনও লাভ নেই, উৎপাদন খরচই উঠে না। সরিষা আবাদে খরচ কম লাভ বেশি। এক থেকে দুই বার সেচ দিলে চলে। বাজার দর ভালো হলে একমণ সরিষা ১৭০০-১৮০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা যায়। এ কারণে আমি আর ধান আবাদে যাচ্ছি না। একমণ ধান ৬০০ টাকা আর একমণ সরিষা ১৭০০ টাকা। ধান কেন আবাদ করতে যাবো?’
তিনি বলেন, ‘সরিষা চাষ করে মানসম্মত ভোজ্য তেল খাবো। আবার ভালো দামে বিক্রি করে লাভবান হবো। আগামীতে সরিষার পাশাপাশি শাক সবজির চাষের পরিকল্পনা করেছি।’
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালকনিখিল চন্দ্র বিশ্বাস জানান, কৃষকের এই উদ্যোগকে আমরা ইতিবাচক হিসেবে দেখছি। জমির উর্বরতা ধরে রাখতে সরিষার আবাদে কৃষকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে। এজন্য অধিকাংশ কৃষক এখন সরিষা আবাদের দিকে ঝুঁকছেন। তাছাড়া অল্প পরিশ্রমে অধিক ফসল ঘরে তোলা যায়।