শুক্রবার (২০ ডিসেম্বর) পর্যন্ত চারদিনে হাসপাতালে মৃত্যু হয়েছে পাঁচ শিশুর। প্রতিদিনই গড়ে শতাধিক শিশু বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিচ্ছে। বেড সংকটের কারণে এক বেডে থাকছে দুই শিশু। রোগী বেশি হওয়ায় কম্বলের সংকটের কারণে দেওয়া হচ্ছে নিম্নমানের পাতলা কম্বল।
সরেজমিন শুক্রবার সকালে হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, বহির্বিভাগে শতাধিক মানুষের লাইন। পীরগঞ্জ থেকে আসা মমতা বেগম বললেন, ‘সন্তান নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে কয়েকদিন হলো। অনেক ওষুধ খাওয়ানোর পরেও ভালো হয়নি। তাই হাসপাতালে নিয়ে এসেছি।’
একই কথা জানালেন নীলফামারী থেকে আসা সালেহা বেগম।
অপরদিকে হাসপাতালের ৯ নম্বর শিশু ওয়ার্ডের ভেতরে ছোট একটি ঘরে ডায়রিয়া ইউনিটের সাইনবোর্ড লাগানো হয়েছে। সেখানে ডায়রিয়া আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা চলছে।
নীলফামারীর জলঢাকার শ্যামলী রানী জানান, তার দুই যমজ শিশুসন্তান ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হলে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরইমধ্যে একজন মারা গেছে। অপরজনের অবস্থাও আশঙ্কাজনক।
শিশু ওয়ার্ডে দেখা গেল, একজন নার্স রোগীদের মাঝে কম্বল বিতরণ করছেন। তবে পাতলা কম্বল দেখে অনেকেই অস্বস্তি প্রকাশ করেন। একাধিক কম্বল দাবি করেছেন তারা। এ ব্যাপারে কর্তব্যরত নার্স আলেয়া বেগম জানান, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোগীপ্রতি একটি কম্বল বরাদ্দ করেছে। ফলে তাদের কিছুই করার নেই।
১০ নম্বর শিশু ওয়ার্ডে দেখা গেল এক বেডে দুই শিশুকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আক্রান্ত শিশুদের বেশিরভাগই নিউমোনিয়া আর শ্বাসজনিত সমস্যায় ভুগছে।
এ ব্যাপারে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মর্তুজা বললেন, ‘ওয়ার্ডে বেড সংকট। তার ওপর রোগীর প্রচণ্ড চাপ। বাধ্য হয়ে দুই জন শিশুর জন্য একটি বেড বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে।’
রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. শাহাদত হোসেন সংকট স্বীকার করে বলেন, ‘এক হাজার বেডের এ হাসপাতালে প্রায় সব সময়ই দুই হাজারেও বেশি রোগী থাকে। ফলে আমাদের করার কিছু নেই।’