ভুতুড়ে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থী ভর্তির বিজ্ঞপ্তি!

Lalmonirhat-Noursing-College-News-Picture_Moazzem-Hossain_20-12-2019-(6)২০১২ সালে লালমনিরহাট নার্সিং কলেজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর ২০১৪ সালে কলেজ ভবনসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ শেষ হলেও উদ্বোধন ছাড়াই সেগুলো অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে ছিল প্রায় পাঁচ বছর। এ দীর্ঘ সময়েও নিয়োগ হয়নি কলেজ পরিচালনার প্রয়োজনীয় জনবল। তবে এবার ভুতুড়ে অবস্থায় পড়ে থাকা সেই কলেজ ক্যাম্পাসেই প্রয়োজনীয় জনবল ছাড়াই ২০২০ সালের জানুয়ারিতে অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে কলেজটিতে শিক্ষার্থী ভর্তির বিজ্ঞপ্তিও দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন নার্সিং মিডওয়াইফারি অধিদফতরের কো-অর্ডিনেটর খায়রুল ইসলাম।

এদিকে কলেজটিতে শিক্ষার্থী ভর্তির বিষয়ে কিছুই জানেন না লালমনিরহাট সিভিল সার্জন ডা. কাসেম আলী ও লালমনিরহাট ১০০ শয্যার সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক গোলাম মোহাম্মদ।

এছাড়া দীর্ঘদিন অরক্ষিত অবস্থায় কলেজ ভবনটি ফেলে রাখা এবং নার্সিং কোর্স চালু না করায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের খামখেয়ালিপনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সংসদ সদস্য মোতাহার হোসেন এবং জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মতিয়ার রহমানসহ স্থানীয় সুধীমহল।   

সরেজমিন লালমনিরহাট নার্সিং কলেজ ক্যাম্পাসে পুরোপুরি ভুতুড়ে পরিবেশ লক্ষ করা গেছে। ক্যাম্পাসে  এ প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয় কলেজের প্রভাষক ইউসুফ আলীর। তিনি ক্যাম্পাস ঘুরিয়ে দেখান।

তিনি বলেন, পাঁচ  বছর আগেই কলেজের অধ্যক্ষের জন্য একতলা একটি ভবন, প্রভাষকদের জন্য ১২৫০ বর্গফুটের তিনতলা  একটি ভবন, তৃতীয় শ্রেণির কর্মকর্তাদের জন্য এক হাজার বর্গফুটের তিনতলা একটি ভবন, কর্মচারীদের জন্য আটশ বর্গফুটের তিনতলা ভবন, নারী শিক্ষার্থীদের জন্য ১৯৬ শয্যাবিশিষ্ট পাঁচতলা দুটি ভবন, দ্বিতীয় ও তৃতীয়তলা একাডেমিক ভবন দুটি, জেনারেটর ঘর, গাড়ি রাখার ঘর, নিরাপত্তা কর্মীর একটি ঘর এবং অতিথিদের দ্বিতল একটি ডাকবাংলোসহ সাড়ে পাঁচ একর জায়গায় বাউন্ডারি ওয়ালের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়। তবে দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় অনেক কিছুই নষ্ট হয়ে গেছে। এসব ঠিকঠাক করা প্রয়োজন। 

ইউসুফ আলী আরও বলেন, ২০২০ সালে কেন্দ্রীয়ভাবে এই কলেজে ডিপ্লোমা ইন মিডওয়াইফারি ৩ বছর মেয়াদি কোর্সের প্রথম ব্যাচে ২৫ জন নারী, ডিপ্লোমা ইন নার্সিং সায়েন্স অ্যান্ড মিডওয়াইফারি ৩ বছর মেয়াদি কোর্সের প্রথম ব্যাচে ৫ জন পুরুষ ও ৪৫ জন নারী এবং বিএসসি ইন নার্সিং ৪ বছর মেয়াদি কোর্সের প্রথম ব্যাচে ৫ জন পুরুষ ও ৪৫ জন নারী শিক্ষার্থী ভর্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রতিবছর তিনটি বিভাগে মোট ১২৫ শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ পাবেন। এরমধ্যে ১০ জন পুরুষ ও ১১৫ জন নারী।

এদিকে লালমনিরহাট নার্সিং কলেজের অধ্যক্ষ ছাহেবা বেগম বলেন, ২০১৯ সালের ২৯ জানুয়ারি এই কলেজে যোগদান করার পর থেকে কয়েক দফায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অধ্যক্ষের ভবনের পশ্চিমে অসমাপ্ত বাউন্ডারি, কলেজের প্রধান ফটকের রাস্তা, আবাসিক হোস্টেলের নিরাপত্তা প্রাচীর নির্মাণ এবং ক্যাম্পাসে মাটি ভরাট ও জনবল নিয়োগের চিঠি দিয়েছি। তবে সরকারি নিয়ম-কানুনের জন্য দেরি হচ্ছে। আগামী বছরের জানুয়ারি মাসেই শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। সেই সঙ্গে জনবলও পাওয়া যাবে। এছাড়া প্রয়োজনীয় নির্মাণকাজও এরইমধ্যে শেষ হবে বলে কর্তৃপক্ষ আশ্বস্ত করেছে।

Lalmonirhat-Noursing-College-News-Picture_Moazzem-Hossain_20-12-2019-(3)তবে কলেজটিতে অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম চালুর বিষয়ে লিখিত কোনও কাগজ হাতে আসেনি বলে দাবি করেছেন লালমনিরহাট সিভিল সার্জন ডা. কাসেম আলী। তিনি বলেন, আমি শুনেছি এবার লালমনিরহাট নার্সিং কলেজটি চালু করা হবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত তেমন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। একজন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও দুইজন প্রভাষক নিয়োগ করা হয়েছে। তবে আমি কোনও কাগজপত্র এখনও হাতে পাইনি।

এদিকে লালমনিরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সংসদ সদস্য মোতাহার হোসেন বলেন,  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১২ সালে ২০ সেপ্টেম্বর লালমনিরহাট সফর করেন। ওইদিন লালমনিরহাট নার্সিং কলেজ নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তিনি। নির্মাণকাজ শেষে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তা বুঝে নেয়। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে কলেজটি উদ্বোধন এবং পাঠদান কার্যক্রম চালুর বিষয়ে বারবার তাগাদা দেওয়া হলেও কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

নার্সিং মিডওয়াইফারি অধিদফতরের কো-অর্ডিনেটর খায়রুল ইসলাম বলেন, খুব শিগগিরই কলেজে জনবল নিয়োগ করা হবে। এছাড়া ২০২০ সালে শিক্ষার্থী ভর্তির বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে।

আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন কেন হয়নি এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। এটি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রকৌশল বিভাগ ভালো বলতে পারবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।