কুয়াশার কারণে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলছে গাড়িদেশের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া মৃদু শৈত্যপ্রবাহ কমে যাওয়ায় এবং সূর্য ওঠায় উত্তরের জেলগুলোয়ও শীতের তীব্রতা কমেছে। প্রায় এক সপ্তাহ পর সূর্যের দেখা মেলায় কুড়িগ্রামে শীতের তীব্রতা কিছুটা কমেছে। জেলার কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার বলছে, তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এক সপ্তাহ পর আবারও শৈত্যপ্রবাহ শুরু হতে পারে।
নীলফামারীতে সোমবার সূর্য উঠলেও মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) ভোর থেকে ফের কুয়াশার চাদরে ঢাকা ছিল চারপাশ। হেড লাইট জ্বালিয়ে যানবাহন চলাচল করছে।
কুড়িগ্রাম কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার জানান, ২৩-২৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত কুড়িগ্রামে দিনের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেলেও রাতের তাপমাত্রা অনেকটা অপরিবর্তিত থাকতে পারে। তবে ২৯ ডিসেম্বরের পর আরও একটি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ২৫-২৬ তারিখে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিও হতে পারে।
আগুন পোহাচ্ছেন লোকজনপ্রায় এক সপ্তাহের কনকনে ঠান্ডায় ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। সোমবারের তথ্য অনুযায়ী, জেলার হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোয় ৩৮ ডায়রিয়া রোগী এবং ২৬ নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। যার বেশির ভাগই শিশু।
কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা. শাহিনুর রহমান সরদার জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে শ্বাসকষ্ট নিয়ে ভর্তি হয়েছে ১০টি শিশু এবং ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ২৩ শিশুসহ ২৬ জন ভর্তি হয়েছে।
শীতজনিত রোগে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া লোকজনশীতে সবচেয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন জেলার ৪ শতাধিক চর ও দ্বীপ চরের বাসিন্দারা। পর্যাপ্ত শীতের পোশাক না থাকায় আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন তারা। যাদের সামান্য সাধ্য আছে তারা ছুটছেন পুরাতন কাপড়ের দোকানে।
এদিকে, নীলফামারীল ডিমলা আবহাওয়া কার্যালয়ের সহকারী কর্মকর্তা আনিছুর রহমান জানান, মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) সর্বনিন্ম তাপমাত্রা ছিল ১০.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
গরম কাপড়ের দোকানে মানুষের ভিড়জেলা শহরের ভ্যানচালক বালু মিয়া বলেন, ‘কনকনে ঠান্ডায় গত চারদিন ধরে ভ্যান নিয়ে ঘর থেকে বের হতে পারিনি। গতকাল (সোমবার) সূর্যের দেখা মেলায় ভ্যান চালিয়ে রোজগারও করেছি ভালো।’ তবে মঙ্গলবার ভোর থেকে ফের ঘনকুয়াশা পড়ায় তার মতো শ্রমজীবী মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন বলে জানান।
সৈয়দপুর বিমান বন্দর আবহাওয়া অফিসের সহকারী কর্মকর্তা মো. লোকমান হাকিম জানান, সোমবার সূর্যের দেখা মিললেও মঙ্গলবার ভোর থেকে কনকনে শীত অনুভূথ হচ্ছে। ঘনকুয়াশার কারণে কমেছে থাকে তাপমাত্রা ।