সোমবার (২৩ ডিসেম্বর) সকাল পৌনে ১২টার দিকে লালমনিরহাটের কালিবাড়ী এলাকার সরকারি খাদ্য গুদাম চত্বরে এই ঘটনা ঘটে। সংবাদকর্মী জাহিদুল সদর উপজেলার থানাপাড়া এলাকার শাহাদত হোসেনের ছেলে।
বিষয়টি তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে প্রতিবেদন দেওয়া হবে বলে জানান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রফিকুল ইসলাম।
এই খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান লালমনিরহাট প্রেস ক্লাবের সভাপতি সময় টিভির জেলা প্রতিনিধি মোফাখখারুল ইসলাম মজনু, সাধারণ সম্পাদক দীপ্ত টিভির জেলা প্রতিনিধি আহমেদুর রহমান মুকুলসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মীরা।
সংবাদকর্মী জাহিদুল ইসলাম সমাপ্ত বলেন, ‘কৃষকের সরকারি কৃষি উপকরণ সহায়তা কার্ড দিয়ে দুই জন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৮ মেট্রিক টন ধান গুদাম কর্মকর্তা শাহীনুর রহমান জমা নিচ্ছিলেন। আমি সেই তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে আমার হাত থেকে ক্যামেরা ছিনিয়ে নিয়ে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেন। বিষয়টি স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের জানাই। তারা আসার পর তাদের সঙ্গেও অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। এই ঘটনায় খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা শাহীনুর রহমানের বিরুদ্ধে লালমনিরহাট সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছি।
জানতে চাইলে খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা শাহীনুর রহমান বলেন, ‘উপস্থিত অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রফিকুল ইসলাম স্যারের সামনেই আমার ভুলের জন্য সংবাদকর্মীদের কাছে ক্ষমা চেয়েছি। বিষয়টি যেন বড় না হয়, এজন্য আপনাদের সহযোগিতা চাইছি।’
লালমনিরহাট সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আইয়ুব আলী বলেন, ‘ভারপ্রাপ্ত খাদ্য নিয়ন্ত্রক শাহীনুর রহমানের সঙ্গে সাংবাদিক জাহিদুল ইসলাম সমাপ্তের মধ্যকার অসৌজন্যমূলক ঘটনার বিষয়ে উপস্থিত সব সংবাদকর্মীদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চেয়েছি। বিষয়টি মীমাংসার জন্য উপস্থিত অতিরিক্তি জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রফিকুল ইসলাম স্যারকে অনুরোধ করেছি। ইতোমধ্যে শাহীনুর রহমানের কাছ থেকে সাংবাদিকের ক্যামেরা এডিসি উদ্ধার করে নিজের হেফাজতে নিয়েছেন।’
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘জেলা প্রশাসক স্যারের নির্দেশে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই পক্ষের সঙ্গেই কথা বলেছি। এই ঘটনায় কোনও কর্মসূচি না দিতে সংবাদকর্মীদের শান্ত থাকার অনুরোধ জানিয়েছি।