পা দিয়ে লিখেই জেএসসি জয়

জন্মগতভাবে বিকলাঙ্গ, হাতবিহীন জন্ম নেওয়া কিশোর মানিক রহমান শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করেছে দুই পা দিয়ে। অন্যদের মতো শরীর না হলেও কাজেকর্মে ও পড়ালেখায় স্বাভাবিক জীবনযাপনে অভ্যস্থ হয়ে পড়া মানিক ২০১৯ সালের জেএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে সফলতার সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়েছে। সে ফুলবাড়ী জছি মিঞা মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবারের জেএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। রোল নম্বর ৬১৮০১৩। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবেদ আলী খন্দকার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে সে ২০১৬ সালেও পা দিয়ে লিখে প্রাথমিক সমাপনী (পিইসি) পরীক্ষাতেও জিপিএ-৫ করেছিল।

হাত না থাকলেও পা দিয়ে লিখে জেএসসিতে জিপিএ ৫ পেয়েছে মানিক

নিজের এই সাফল্যে অত্যন্ত খুশি মানিক রহমান বলে, ‘আমার দুটো হাত না থাকলেও আল্লাহর রহমতে পা দিয়ে লিখে সব বিষয়ে জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছি। আমার জন্য সবাই দোয়া করবেন যেনও সামনে আরও ভালো করতে পারি।’

ভবিষ্যতে সফটওয়্যার  ইঞ্জিনিয়ার  হওয়ার স্বপ্ন রয়েছে জানিয়ে মানিক আরও বলে, ‘এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় ভাল রেজাল্ট করে প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার ইচ্ছে রয়েছে। কামনা করি যেনও বাবা-মায়ের স্বপ্ন পূরণ করে তাদের পাশে দাঁড়াতে পারি।’   

ছেলের এমন ফলের কথা জানতে পেরে খুশিতে প্রায় কেঁদেই ফেলেন মানিকের বাবা মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমার দুই ছেলে। মানিক বড়, ছোট ছেলে মাহীম ২য় শ্রেণিতে পড়ে। মানিককে আমরা প্রতিবন্ধী মনে করি না। জন্ম থেকে তার দুটো হাত না থাকলেও ছোট থেকে মানিকের মা ও আমি তাকে পা দিয়ে লেখার অভ্যাস করিয়েছি। এজন্য আমার স্ত্রী মরিয়ম বেগমের অবদানই বেশি। সমাজে অনেক সুস্থ ও স্বাভাবিক ছেলে-মেয়েদের চেয়েও মানিক এবারের জেএসসি পরীক্ষায় ভালো ফল করেছে। ওর জন্য আমরা গর্ববোধ করি। সবাই আমার ছেলেটার জন্য দোয়া করবেন সে যেনও সুস্থ ও সুন্দরভাবে বেঁচে থাকতে পারে। আল্লাহ যেনও ওর স্বপ্নগুলো পূরণে সহায়তা করেন।’ 

দুই হাত না থাকলেও পা দিয়েই মোবাইল ও কম্পিউটার চালানো ও ইন্টারনেট ব্যবহারে পারদর্শী বলে জানান বাবা মিজানুর রহমান।

ফুলবাড়ী জছি মিঞা মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবেদ আলী খন্দকার বলেন, ‘শারীরিক প্রতিবন্ধকতার পরও মানিক অসাধারণ শিক্ষার্থী। সে আমাদের বিদ্যালয়ের সম্পদ। সে ডান পায়ে বুড়ো আঙ্গুলের ফাঁকে কলম ধরে লিখে আর বাম পা দিয়ে প্রশ্ন ও খাতার পাতা উল্টাতে পারে। এভাবে পরীক্ষা দিয়ে সে জিপিএ-৫ অর্জন করেছে।’

মানিকের প্রতিভার প্রশংসা করে এই শিক্ষক আরও বলেন, ‘আসলে ওর প্রতিভা আল্লাহ প্রদত্ত। সে পড়ালেখার পাশাপাশি আবৃত্তি ও গানেও সমান পারদর্শী। ওর ইচ্ছা ভবিষ্যতে সফট ওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হবে। আমি দেয়া করি আল্লাহ যেনও তার সব বাসা পূর্ণ করেন।’

এবার বিদ্যালয় থেকে ১৩৯ জন পরীক্ষার্থী জেএসসি পরীক্ষায়  অংশ নিয়েছে। শতভাগ উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীদের মধ্যে মানিক রহমানসহ ৩২ জন জিপিএ-৫ অর্জন করেছে বলে জানান প্রধান শিক্ষক।