রিসাইক্লিং মেশিনদিনাজপুরের হাকিমপুর পৌর এলাকায় অপচনশীল আবর্জনা, পলিথিন, প্লাস্টিক ও টায়ার ব্যবহার করে কালি ও তেল উৎপাদন করছে ‘প্লাস্টিক অ্যান্ড রাবার রিসাইক্লিং ওয়েল প্ল্যান্ট’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। যেখানে প্রায় ২৫ জন শ্রমিক কাজ করেছেন। এ কার্যক্রমের ফলে একদিকে পরিবেশ যেমন বিপর্যয় থেকে রক্ষা পাচ্ছে, অপরদিকে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হিলি স্থলবন্দরের ছাতনী চারমাথা মোড়ের রাঙ্গামাটি এলাকায় রিসাইক্লিং প্ল্যান্টটি গড়ে তোলা হয়েছে। গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের দীপক মোহন্ত গত বছরের জুলাইয়ে পরিবেশ অধিদফতর ও ফায়ার সার্ভিসের ছাড়পত্র নিয়ে ৩৭ শতাংশ জমির ওপর প্ল্যান্টটির নির্মাণ কাজ শুরু করেন। প্রথমে তিনি দুজন কর্মী নিয়োগ দেন। তারা প্রতিদিন ভ্যানে হিলি স্থলবন্দরসহ পৌরসভার বিভিন্ন বাজার ও ড্রেনে জমে থাকা পলিথিন ও প্লাস্টিকের প্যাকেট সংগ্রহ করেন। এছাড়াও প্রতি সপ্তাহে দুদিন পৌরসভার পক্ষ থেকে দেওয়া ময়লা-আবর্জনা থেকে কাগজ সংগ্রহ করা হয়। এছাড়াও নষ্ট ও পরিত্যক্ত টায়ার সংগ্রহ করা হয়। এসব দিয়ে প্লান্টে তেল ও কালি তৈরির কাজ শুরু করা হয়।
তৈরি কালিফ্যাক্টরির শ্রমিকরা বলেন, কারখানাটি গড়ে ওঠায় আমাদের মতো গরিব মানুষের উপকার হয়েছে। আমরা ২০/২৫ জনের মতো শ্রমিক এখানে কাজ করি। পলিথিন ও টায়ার প্রসেস করে মেশিনের সাহায্যে তেল, কালি ও তাঁর উৎপাদন করা হয়। এ থেকে যে মজুরি পাই তা দিয়ে সংসার চলে। ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার খরচসহ সবকিছু ভালোভাবে চলে। এ ধরনের কারখানা আরও গড়ে ওঠা দরকার। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকায় এভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হলে চোরাচালান কমে আসবে।
হাকিমপুর পৌরসভা প্লাস্টিক অ্যান্ড রাবার রিসাইক্লিং ওয়েল প্ল্যান্টের মালিক দীপক মোহন্ত জানান, দুজন কর্মী নিয়োগ দিয়ে তিনি কাজ শুরু করেন। এখন প্রসার বেড়েছে। তার কারখানায় যে তেল তৈরি হয় তা রাস্তার কাজে ব্যবহৃত ডিজেলের পরিবর্তে গ্রিনওয়েল হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
পরিত্যক্ত টায়ারম্যানেজার আব্দুল আজিজ বলেন, ‘টায়ার পোড়ানোর কালো ধোঁয়া আটকে তা থেকে কালি তৈরি করা হয়। এটি কম্পিউটারের কালি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এছাড়াও টায়ারের অবশিষ্টাংশ থেকে তাঁর বের হয়। সেটি রড ফ্যাক্টরিতে সরবরাহ করা হয়। এতে করে পৌর এলাকার আবর্জনা অপসারণের পাশাপাশি ২৫ জন শ্রমিকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া জমিসহ বিভিন্ন স্থানে পলিথিন জমে যে পরিবেশ বিপর্যয়ের সৃষ্টি হতো, তা থেকেও রক্ষা পাওয়া যাচ্ছে।’
হাকিমপুর পৌরসভার মেয়র জামিল হোসেন চলন্ত বলেন, ‘ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্টের ওপর একটি ট্রেনিংয়ে অংশগ্রহণের জন্য সরকার আমাকে নেদারল্যান্ডস পাঠিয়েছিল। সেখানে ময়লা আবর্জনা সংগ্রহ করে কাজে লাগাতে দেখি। ওইটা দেখে আসার পর আমি এলাকার এনজিও কর্মকর্তা, উদ্যোক্তা ও সুধিজনদের ডেকেছিলাম। আমাদের টার্গেট ছিল, বিভিন্ন ড্রেনে পলিথিন জমে পানি নিষ্কাশনে যে বাধার সৃষ্টি করে তা দূর করা।’
টায়ার থেকে পাওয়া তাঁরমেয়র বলেন, ‘উদ্যোক্তাদের একজন জানিয়েছিলেন, পলিথিন রিসাইক্লিং করে তিনি তেল ও কার্বন তৈরি করবেন। এ জন্য তিনি প্রতিষ্ঠান গড়তে চান। আমরা তাকে উৎসাহিত করার পর কারখানা চালু করা হয়। ওই কারখানায় পলিথিন ও প্লাস্টিকের আবর্জনা এবং পুরোনো টায়ার থেকে তেল ও কালি উৎপাদন করা হয়। এতে বেশ কয়েকজনের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। আশা করি, এটি ভবিষ্যতে আরও ভালো কিছু করবে।’