বেড়েছে সিলিন্ডার গ্যাসের দাম, বিপাকে ভোক্তারা

সিলিন্ডার গ্যাসনীলফামারীতে সিলিন্ডার গ্যাসের দাম বাড়ায় বিপাকে পড়েছেন ভোক্তরা।  ১২ কেজি ওজনের সিলিন্ডার গ্যাস বিক্রি হচ্ছে ১১০০ থেকে ১১৫০ টাকায়। গত মাসে যা ছিল ৯০০-৯৫০ টাকা।  গ্যাস ব্যবসায়ীরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ায় তাদের বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। একারণে কিছু লাভ রেখে বিক্রি করতে হচ্ছে।

জেলা শহরের মুরগি হাটির ওয়েলডিং ব্যবসায়ী সোলেমান মিয়া জানান, গত মাসের তুলনায় সিলিন্ডার প্রতি ১৫০-২০০ টাকা দিতে হচ্ছে।

একই এলাকার চা বিক্রেতা নূর ইসলাম বলেন, ‘দোকানে সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহার করি। গ্যাস শেষ হওয়ায় কিনতে গিয়ে দেখি দাম বেড়েছে। যে গ্যাস আগে ৯০০ টাকায় কিনেছিলাম তা কিনলাম ১১০০ টাকায়।’

বড় বাজারের হোটেল মালিক ভঞ্জন কুন্ডু বলেন, ‘সাতদিন আগে ৪৫ কেজি ওজনের একটি সিলিন্ডার তিন হাজার ৭০০ টাকায় কিনেছিলাম। রবিবার (৫ জানুয়ারি) একই সিলিন্ডার তিন হাজার ৯০০ টাকায় কিনতে হয়েছে। সপ্তাহের ব্যবধানে ২০০ টাকা বেড়েছে। এ রকম হলে হোটেল ব্যবসা একেবারেই বন্ধ হয়ে যাবে।’

গৃহিণী আলেয়া বেগম (৫৫) বলেন, ‘একই সিলিন্ডার আগে কিনেছিলাম ৯০০ টাকায়। আজকে সেটি ১৮০ টাকা বেশি দিয়ে কিনতে হলো।’

আরেক গৃহিণী ফেরদৌসি বেগম (৩০) বলেন, ‘পেঁয়াজ, ভোজ্য তেল, আদা, রসুনসহ নিত্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়ার পর এবার গ্যাসের দাম বাড়লো। এতে আমরা স্বল্প আয়ের মানুষ বিপাকে পড়ছি।’

সিলিন্ডার গ্যাসের খুচরা বিক্রেতা মনিরুজ্জামান বলেন, ১ জানুয়ারি থেকে পরিবেশকরা দাম বাড়িয়েছে। তারা বেশি দামে কিনছেন বলেই বাড়তি দামে বিক্রি করছেন।

এ ব্যাপারে শহরের ওমেরা এলপিজি গ্যাসের পরিবেশক মেসার্স বিএস ট্রের্ডাসের চিত্ত রঞ্জন সরকার বলেন, ১ জানুয়ারি থেকে বিভিন্ন কোম্পানির গ্যাসের দাম বেড়েছে। বাড়তি দামে গ্যাস কিনে বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে আমাদের করার কিছু নেই।

জেলা মার্কেটিং ও এলপিজি গ্যাস নিয়ন্ত্রণ কমিটির সদস্য সচিব এটিএম এরশাদ আলম খান জানান, বর্তমানে সিলিন্ডার গ্যাসের দাম নিয়ন্ত্রণ করে জেলা প্রশাসন। দাম বাড়ার বিষয়ে তারাই ভালো বলতে পারবে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ও সিলিন্ডার গ্যাসের দাম নিয়ন্ত্রণ কমিটির আহ্বায়ক আজাহারুল ইসলাম বলেন, গ্যাস বাজারে বিক্রির নির্ধারিত মূল্য আছে। বর্তমানে দাম বৃদ্ধি পেয়েছে কিনা সে বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। দাম না বাড়লেও বেশি দামে বিক্রি করা হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।