অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার দিনাজপুরে শীতের তীব্রতা বেশি ছিল। ঘন কুয়াশার পাশাপাশি সাতটি শৈত্য প্রবাহ বয়ে গেছে জেলার ওপর দিয়ে। এর প্রভাবে অনেক কৃষকের বীজতলার চারা মরে গেছে। অনেকে দুইবার বীজ বপন করেও চারা পাননি ঠিক মতো। তাই বোরো ধান রোপণের ভরা মৌসুমেও মাঠ ফাঁকা। অনেকের জমি তৈরি হলেও চারার অভাবে চাষাবাদ শুরু করতে পারেননি। আবার যারা চারা পাচ্ছেন তাও প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। অনেকে দূর-দুরান্ত থেকে চারা কিনে রোপণ করছেন। তাতে করে বাড়ছে উৎপাদন খরচ। তাই বোরো মৌসুমের উৎপাদিত ধানের ন্যায্য মূল্য প্রদানের দাবি তাদের।
রফিকুল ইসলাম নামে আরেক কৃষক বলেন, ‘এক কেজি বিচন সাড়ে ৩০০ টাকা কিনি নিবা লাগেছে। তাও পাওয়া যাছে না। ধান দেরি করি গারিলে ফলন কম হবে।’
সদর উপজেলার দক্ষিণ গোসাইপুর গ্রামের কৃষক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘শীতের কারণে দুইবার বিচন ফেলা হইছে। তাও বিচন টিকিতে পারে না। বিচন কিনি লাগাতে প্রতি বিঘায় ২ হাজার থেকে ২২০০ টাকা লাগছে। সারের দাম বেশি, বিষের (কীটনাশক) দাম বেশি, তেলের দাম বেশি। পার বিঘায় ১৫-১৬ হাজার টাকা খরচ। আবার ধান কাটার সময় ৭-৮ হাজার টাকা লাগে। আমাদের কিছু পোষায় না। এই অবস্থায় সরকার যদি কিছু ধানের দাম বাড়ায় দেয় তাহলে আমাদের লাভ হবে। ’
দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় ১ লাখ ৭১ হাজার ২২০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় ১৮ শতাংশ জমিতে চারা লাগানো সম্পন্ন হয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক তৌহিদুল ইকবাল বলেন, বিচ্ছিন্নভাবে ঘন কুয়াশার ও শীতের কারণে বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ভয় ও ক্ষতির আশঙ্কা নেই। কারণ প্রয়োজনের তুলনায় বেশি বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। বীজতলার বয়স হিসেবে চারা দ্রুত রোপণ করা উচিত। সঠিক হিসাবে চারা রোপণ করা না হলে ফলনে প্রভাব পড়বে। বোরোতেও বাম্পার ফলন হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।