নদীর বালু জমিতে, ফসল নষ্টের শঙ্কায় কৃষক

চরের ফসলি জমিতে ফেলা হচ্ছে বালুদিনাজপুরের বীরগঞ্জে চরে আবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করেন অর্ধ শতাধিক ভূমিহীন কৃষক। চরের জমিতে পেঁয়াজ,আলু,মিষ্টি কুমড়াসহ বিভিন্ন ফসল চাষাবাদ করেন ভূমিহীন কৃষকরা। আবাদ করা ফসলে ফলনও এসেছে। তবে নদী খনন করে বালু ফেলা হচ্ছে চরে লাগানো ফসলের ওপর। ফলে ফসল নষ্ট হওয়ার শঙ্কায় আছেন কৃষকরা। তারা আগামী ৪০ দিন বালু খনন না করার আবেদনও জানিয়েছেন।

জানা গেছে, বীরগঞ্জ উপজেলার শতগ্রাম ইউনিয়নের কাশিমনগর গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া আত্রাই নদী খননের পর সেই বালু চরের ফসলি জমির ওপর ফেলা হচ্ছে। যাতে ফসল নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। বালু ফসলি জমির ওপর না ফেলে ফাঁকা জমিতে ফেলার আবেদন জানিয়েছেন কৃষকরা। একইসঙ্গে আগামী ৪০ দিন ওই স্থানে বালু খনন কার্যক্রম বন্ধ রেখে অন্যত্র কার্যক্রম করার আবেদন জানিয়েছেন তারা।

চরের ফসলি জমিতে ফেলা হচ্ছে বালুফসল রক্ষার দাবিতে রবিবার (৯ ফেব্রুয়ারি)  আত্রাই নদীর চরে ভূমিহীন কৃষকেরা মানববন্ধনও করেছেন।

কৃষকরা জানিয়েছেন, নাব্য ফেরাতে কাশিমনগর গ্রামে আত্রাই নদীতে খনন চলছে। এ বালু জমিতে ফেলায় ফসল নষ্ট হচ্ছে। তবে দুই মাস সময় দিলে ফসল ঘরে তুলতে পারবেন তারা। যদি ফসল না উঠে তাহলে হাজার হাজার টাকা ব্যাংক ও এনজিও থেকে লোন করে নদীর চরে আবাদ করেছেন।

কৃষক ফজর আলী বলেন, ‘আমি নদীর চরে ৯ বিঘা জমিতে ভুট্টা লাগিয়েছি। আমার মতো অনেক ভূমিহীন কৃষক চরে আবাদ করেছেন। হঠাৎ করে নদী খনন শুরু হয়েছে। বালু উত্তোলন করে আমাদের ফসলের ওপর ফেলায় হুমকির মুখে পড়েছি। আমি ২ লাখ টাকা খরচ করে এসব চাষাবাদ করছি। বালুতে ফসল নষ্ট হয়ে যায় তাহলে আমার পথে বসা ছাড়া কোনও উপায় থাকবে না।’

চরের ফসলি জমিতে ফেলা হচ্ছে বালুআরেক ভূমিহীন কৃষক আলম শেখ বলেন, ‘আমার অনেক গুলো কুমড়া গাছ বালুতে ঢেকে গেছে। অনেক টাকা লোন করে এগুলো আবাদ করেছি। ফসল নষ্ট হয়ে গেলে কীভাবে পরিশোধ করবো?’

কাশিমনগর  গ্রামের ইউপি সদস্য আব্দুর সালাম বলেন, ‘আমাদের এখানে অনেক মানুষ ভূমিহীন। তারা এই জমিতে আবাদ করে সংসার চালান। আমরা চাই এসব অসহায় মানুষদের ২ মাস সময় দেওয়া হোক। তারা যেন ফসল ঘরে তুলতে পারে। আর বালু ফেলার অনেক জায়গা আছে।’

এলাকাবাসী ৪০ দিনের সময় চেয়ে বীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর একটি লিখিত আবেদনও জমা দিয়েছে।

ফসলি জমিতে বালু ফেলা বন্ধের দাবিতে মানববন্ধনএ বিষয়ে জানতে চাইলে পঞ্চগড় পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী তৌহিদ সারোয়ার বলেন, অনেক আগে থেকেই ওইসব এলাকায় নদীর চরে যাতে কেউ ফসল না লাগায় তা নিয়ে প্রচার চালিয়েছি। যেহেতু এলাকাবাসী বিষয়টি নিয়ে মানববন্ধন করেছে সেজন্য আমরা সরেজমিন গিয়ে দেখতে চাই। যদি একান্তই সমস্যা হয়, তাহলে বিষয়টি আলোচনা করে সমাধান করতে হবে।