যশোরের অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়ার এসএএফ লেদার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড শতভাগ রফতানিমুখী প্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠানটির প্রক্রিয়াজাত করা চামড়ার ৬০ শতাংশই রফতানি হয় চীনে।
এই প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার (অ্যাডমিন) বিধান কুমার হোড় বলেন, চীনে করোনা ভাইরাসের প্রার্দুভাব দেখা দেওয়ায় রফতানি কমে প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। সেইসঙ্গে কমেছে উৎপাদন।
তিনি বলেন, ‘আমাদের রফতানির ৬০ ভাগই চীনে যায়। প্রায় ৮০ কোটি টাকার পণ্য আমরা চীনে রফতানি করি। এখন সেটি সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। কিছু অংশ যায় ইতালি, জাপান, যুক্তরাষ্ট্রে।’
একই অবস্থা যশোর বিসিক শিল্প নগরীর এমইউ সি ফুডের। বহু প্রচেষ্টায় চীনে চিংড়ি রফতানি শুরু করলেও করোনার প্রভাবে তা বন্ধ হয়ে গেছে। উপরন্তু ইউরোপের বাজারে অসুস্থ প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
এমইউ সি ফুড লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শ্যামল দাস বলেন, ‘অনেক চেষ্টার পর আমরা গত বছর চীনে ৮-১০ কোটি টাকার হিমায়িত চিংড়ি রফতানি করতে সক্ষম হই। ২০২০ সালে আমাদের টার্গেট ছিল ১৮-২০ কোটি। কিন্তু সাম্প্রতিক এই অবস্থার কারণে নতুন কোনও অর্ডার আমরা পাইনি।’
তিনি বলেন, ‘আগে মোংলায় প্রতিমাসে আমরা চারটি জাহাজ পেতাম, এখন দু’টি। এতে করে আমাদের শিপমেন্ট দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের কর্মী ছাঁটাই করতে হবে।’
যন্ত্রাংশ থেকে ইজিবাইক ফিটিংয়ের কাজ করেন ফিরোজ আহমেদ। তিনি বলেন, ‘শোরুম গুলোতে আমরা ইজিবাইক ফিটিংয়ের কাজ করে থাকি। এমনি আরও ১৫টি গ্রুপ রয়েছে, যেখানে কাজ করে তিনশ’য়ের বেশি শ্রমিক। আমি প্রতিদিন ৮-১০টা গাড়ি ফিটিংয়ের কাজ করতাম। গত ২২ দিন ধরে কাজ একদম বন্ধ। খুব কষ্টের মধ্যে রয়েছি আমরা।’
যশোর চেম্বর অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সহ-সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন বলেন, করোনা সমস্যা দ্রুত সমাধান হলে ব্যবসায়ীরা আস্তে আস্তে উতরে যেতে পারবেন। কিন্তু যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে ব্যবসায়ীরা যেমন চরম আর্থিক ক্ষতির শিকার হবেন, তেমনি বেড়ে যাবে সাধারণ মানুষের জীবনযাপনের খরচ। কেননা এখন নিত্যপ্রয়োজনীয় অনেক দ্রব্য চীন থেকে আমদানি করতে হয়, যেগুলো আমাদের রোজকার দিনে লাগে। চাহিদা অনুযায়ী মালামাল আমদানি করতে না পারায় সরকার যেমন রাজস্ব হারাচ্ছে, তেমনি ব্যবসায়ীরাও পড়েছেন সমস্যায়। তাদের লাখ লাখ টাকার পণ্য বাজারে বাকি দেওয়া রয়েছে, ব্যাংক লেনদেনেও সমস্যা বাড়ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে পণ্যের দাম ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাবে।