জেলা শহরের বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি আদা ২৪০ টাকা এবং খুচরা বাজারে প্রতি কেজি ২৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া বাজারে মরিচ, পেঁয়াজ ও রসুনের দামও বেশ চড়া। ক্রেতাদের অভিযোগ, কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ী রমজানকে পুঁজি করে অতিরিক্ত মুনাফা হাতিয়ে নিচ্ছে।
রবিবার (২৬ এপ্রিল) সকালে জেলা শহরের কিচেন মার্কেটে প্রকার ভেদে ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে রসুন বিক্রি হয়েছে। অথচ আগের দিন বিক্রি হয়েছে ৬০ থেকে ৭০ টাকায়। এক দিনের ব্যবধানে ১০ টাকার মরিচ ২০ টাকা, ৫০ টাকার পেঁয়াজ ৬০ টাকা, ৬০ টাকার চিনি ৭২ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এছাড়া ডাল কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ১০০ টাকা, ছোলা ৭৫ টাকা থেকে বেড়ে ৮৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
কিচেন মার্কেটের মাছের বাজারের ক্রেতা সিরাজুল ইসলাম বলেন, 'মাছের বাজার স্বাভাবিক রয়েছে, রুই প্রতি কেজি ২০০, কাতল ১৯০, তেলাপিয়া ১৩০, শিং ৪৫০, সরপুঁটি ১২০ এবং পাঙ্গাশ ৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। আর ইলিশ আকার ভেদে সর্বোচ্চ ৮০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এ ছাড়া দেশি মাগুর ৪৫০, হাইব্রিড মাগুর ১২০, পাবদা ৪৫০ ও গলদা চিংড়ি ৪৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।
ওই মার্কেটের কাঁচামাল ব্যবসায়ী ইলিয়াস আলী ও বুলু মিয়া জানান, আদা, রসুন ও শুকনা মরিচের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম, তাই বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। এ ছাড়াও করোনায় লকডাউনে পরিবহন বন্ধ থাকায় কিছু কিছু পণ্যের দাম বেড়েই চলেছে। তারা বলেন, লকডাউন শিথিল করা হলে আবার সরবারহ বাড়বে। তখন বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে।
আব্দুর রশিদ ও শফিকুল ইসলাম নামের দুই জন ক্রেতা বলেন, 'লকডাউনে ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ থাকায় প্রত্যেকের রোজগার কমেছে। আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের মিল রেখে বাজার করতে হয়। এভাবে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম তর তর করে বেড়ে গেলে বাঁচার উপায় নেই।' এছাড়া রমজানকে পুঁজি করে বিক্রেতারা অতিরিক্ত মুনাফার জন্য দাম বেশি রাখছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
জেলা মার্কেটিং কর্মকর্তা এটিএম এরশাদ আলম খান জানান, দোকানিদের মূল্য তালিকা টাঙানোর জন্য বলা হয়েছে। দুই একদিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে তিনি আশা করেন।