পুলিশকে মেসেজ দিলেই মিলছে সহায়তা

পুলিশের দেওয়া ত্রাণ‘আগে একটি বেসরকারি সংস্থায় জব করতাম, এখন প্রজেক্ট নেই। জবলেস হয়ে আছি। মানসম্মান ত্যাগ করে আপনাকে জানাচ্ছি। ....প্রজেক্ট শেষে কিছু টাকা পাই তা দিয়ে দুইটা রিকশা কিনে ভাড়া দিয়েছিলাম। কিন্তু লকডাউনে রিকশাগুলো চলছে না। খাবারের কষ্টে আছি।’ 

কুড়িগ্রাম জেলা পুলিশের ফেসবুক পেজে এমন শত শত মেসেজ দিয়ে খাদ্য সহায়তা চাইছেন মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্তরা। বার্তা পেয়েই সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছে পুলিশ।

ওই পেজে আরেকজন লিখেছেন ‘খুব কষ্টে রোজা করতেছি, যদি ১-২ দিনের মধ্যে কোনও ব্যবস্থা করতেন তাহলে দু’মুঠো খেয়ে রোজা রাখতে পারতাম। আমার ঠিকানা....।’ 

লকডাউনের কারণে জেলার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থায় কাজ করা ব্যক্তি এবং টিউশনি ও কোচিং সেন্টারের ওপর নির্ভর করা হাজারো পরিবার বিপাকে পড়েছেন। খাদ্য সংকটে থাকা পরিবারগুলো ‘পুলিশ সুপার, কুড়িগ্রাম’ নামের ফেসবুক পেজে মেসেজ দিলেই পাচ্ছেন খাদ্য সহায়তা। সহায়তা চাওয়া পরিবারগুলো যাতে সামাজিকভাবে হেয় না হয় সেজন্য রাতের আঁধারে তাদের বাসায় খাবার পৌঁছে দিচ্ছে জেলা পুলিশ। প্রতি রাতে প্রায় ৪০-৫০টি পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দিচ্ছে কুড়িগ্রাম জেলা পুলিশ। 

পুলিশের দেওয়া ত্রাণ
সাহায্য পেয়ে সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দিতে পেরে একজন জানিয়েছেন, ‘আমার বাচ্চারা খুব খুশি হয়েছে। ছোট মেয়ে সব জিনিস ধরে আছে আর বড় মেয়ে হিসাব করে দেখতেছে কতদিন খাবো। ওদের খুশি আপনাকে আমার ভাষায় বোঝাতে পারবো না। ধন্যবাদ, সৃষ্টিকর্তা আপনার মঙ্গল করুন।’

খাদ্য সংকটে থাকা শত শত অসহায় মানুষদের বাড়ি বাড়ি ত্রাণ পৌঁছে দিয়ে খাদ্য সংকট নিরসনে সহায়তা করার পাশাপাশি দুর্ভোগে থাকা মানুষগুলোর মুখে হাসিও ফোটাচ্ছে জেলা পুলিশ। জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে যখনই কোনও পরিবারের খাদ্য সংকটের মেসেজ পাচ্ছেন তখনই সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে দিয়ে সেই পরিবারের কাছে সবার অগোচরে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা নিচ্ছেন পুলিশ সুপার (এসপি) মহিবুল ইসলাম খান।
এসপি বলেন, ‘ফেসবুক পেজে প্রতিদিন প্রচুর মেসেজ আসছে। সবাইকে হয়তো সহায়তা করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে প্রতি রাতে ৪০-৫০টি পরিবারের কাছে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।’
জেলার দলিত সম্প্রদায়ের মাঝে খাদ্য সহায়তা দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রায় ৫০০ দলিত পরিবারের তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে। খুব শিগগিরই তাদেরকে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে।’
এসব খাদ্য সহায়তার তহবিল গঠনে জেলা পুলিশের অনেক সদস্য, বন্ধু ও শুভানুধ্যায়ীদের অনুদান রয়েছে বলে জানান পুলিশ সুপার।