নির্দিষ্ট সময় আসার আগেই দিনাজপুরের অনেক দোকানপাটই খুলেছেন ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, জীবিকার তাগিদেই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো খোলা হচ্ছে। যারা দোকান খুলছেন তাদের স্বাস্থ্যবিধি ও নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে ব্যবসা পরিচালনার বিষয়টি নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন মালিক সমিতির নেতারা। শিগগিরই ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তারা।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাজারের বই, কাপড়, জুতা, হার্ডওয়্যারসহ বিভিন্ন দোকানপাট খুলেছে। কোনও দোকান শাটার পুরো খোলা আবার কোনোটি অর্ধেক খোলা। জেলা শহরের নিমতলা থেকে বুটিবাবুর মোড় পর্যন্ত প্রায় পৌনে এককিলোমিটার রাস্তায় ছিল ভিড়। সাইকেল, মোটরসাইকেল, ইজিবাইক ও হেঁটে যাচ্ছে লোকজন। নিরাপদ দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি কাউকে মানতে দেখা যায়নি।
নিমতলা সোনালী ব্যাংকের সামনে কথা হয় রফিকুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘বেশ কয়েকদিন ধরে বাড়িতে আছি। সংসারের অনেক কিছু প্রয়োজন, তাই
বাজার করতে এসেছি। আমি নিজে দূরে দূরে চললেও অনেকেই চলছেন গা ঘেঁষে। বিষয়টি আমার কাছে খারাপ লাগলেও কিছু করার নাই।’
বাড়িতে না থেকে ইজিবাইক নিয়ে বের হওয়ার কারণ জানতে চাইলে চালক সেরাজুল ইসলাম উল্টো প্রশ্ন করে বলেন, ‘কাম না করলে খাব কী? আমাদেরকে খাওয়াবে কে? রোগের চেয়ে ভোগ আগে।’
লিলি মোড় এলাকায় ঘড়ি ও ইলেকট্রিক জিনিস নিয়ে বসেছেন কয়েকজন। এদের মধ্যে একজন বলেন, ‘বাড়িতে কয়েকদিন ধরেই বসে আছি। কাজ নাই, খাওয়াও নাই। কারও কাছে হাত পাততেও পারি না। তাই দোকানের কিছু জিনিস নিয়ে বসেছি। তবে দূরত্ব বজায় রেখেই ব্যবসা করা হচ্ছে। আমাকে ও আমার পরিবারকে যেমন বাঁচতে হবে তেমনি খেতেও হবে।’
দিনাজপুর পৌরসভার সামনে সারি সারি হয়ে ফলের ভ্যান নিয়ে ব্যবসা করছেন কয়েকজন। তফিউদ্দিন নামে একজন বলেন, ‘এগুলো কাঁচামাল। ব্যবসা না করলে নষ্ট
হয়ে যাবে। আর এই সময়টাতে ফলের বেশ চাহিদা। বেশিরভাগ লোকজন মাল্টা, পেয়ারা ও আপেল কিনছেন। তবে আমি আমার ভ্যানে কাউকে হাত দিতে দেই না। হাজার হোক আমাকেও তো বাঁচতে হবে।’
দিনাজপুর জেলা দোকান মালিক ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও বাহাদুরবাজার জাভেদ সুপার মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম শাহী বলেন, সবচেয়ে যেটি বড় বিষয় হলো নিরাপদ দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা। অনেকেই দোকান খোলার পক্ষে, অনেকে খুলেছেনও। তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে এটার বিপক্ষে। কারণ এই সময়ে সব শর্ত মেনে ব্যবসা করা যাবে না। দু-একদিনের মধ্যেই বৈঠক করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।