নবাবগঞ্জ থানা সূত্রে জানা যায়, সোমবার (২২ জুন) বিকালে দিনাজপুর আমলি আদালত-৬ এর জ্যেষ্ঠ বিচারক মো. মনিরুজ্জামান সরকারের কাছে মিজানুরকে হত্যার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে মোস্তফা। মোস্তফা রংপুর জেলার মিঠাপুকুর থানার শিতলগাছি গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে। গত ১৬ জুন দিনাজপুরের নবাবগঞ্জের পুলবান্ধা এলাকায় একটি মাঠের জঙ্গলে মিজানুরের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত মিজানুর ফুলবাড়ী উপজেলার তেতুলিয়া গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে।
নবাবগঞ্জ থানার ওসি অশোক কুমার চৌহান বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, গত ১৫ জুন সকালে অসুস্থ স্ত্রী আকতারা বেগমের জন্য ওষুধ কেনার কথা বলে বাড়ি থেকে চার্জার ভ্যান নিয়ে বের হন মিজানুর। ওই দিন রাতে আর বাসায় ফেরননি তিনি। পরদিন বিকালে নবাবগঞ্জ উপজেলার পুলবান্ধা গ্রামে মিজানুরের গলাকাটা লাশ পাওয়া যায়। লাশ উদ্ধারে গিয়ে পুলিশ সেখান থেকে একটি মুঠোফোন উদ্ধার করে। অনুসন্ধানে দেখা যায়, মুঠোফোনটি মোস্তফার। পরে পুলিশ সুপার অনোয়ার হোসেনের সার্বিক নির্দেশনায় এবং বিরামপুর সার্কেল এএসপি মিথুন সরকারের সার্বিক সহযোগিতায় গত শনিবার মোস্তফাকে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়। সেইসঙ্গে মোস্তফার বাড়ি থেকে মিজানুরের চুরি যাওয়া ভ্যানটিও উদ্ধার করছে পুলিশ। মোস্তফার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই গ্রামেই তার মামার বাড়ি থেকে মিজানুরকে হত্যায় ব্যবহৃত রক্তমাখা চাকুও উদ্ধার করা হয়েছে।
ওসি আরও জানান, জবানবন্দিতে মোস্তফা জানায়, নিহত মিজানুর ও সে একই সঙ্গে ঢাকায় রিকশা চালাতো। তখন থেকেই তাদের মধ্যে বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বেশ কিছুদিন আগে মিজানুর বাড়িতে চলে এসে রিকশাভ্যান চালানো শুরু করে, আর মোস্তফা ঢাকাতেই থেকে যায়। করোনার কারণে লকডাউন শুরু হলে মোস্তফাও গত মার্চ মাসে ঢাকা থেকে বাড়িতে চলে আসে। মোস্তফা নেশাগ্রস্ত হওয়ায় এবং করোনায় এলাকায় এসে তেমন কাজ না পাওয়ায় অভাবে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ে। নেশা এবং পরিবারের খরচ জোগাড় করতে ভ্যান ছিনতাইয়ের সিদ্ধান্ত নেয় সে। সেই মোতাবেক গত ১৫ জুন সকালে ফুলবাড়ী আসে মোস্তফা। বাজার থেকে ৩০ টাকা দিয়ে একটি চাকু কেনে। এরপর ফুলবাড়ী রেলগুমটিতে বসে ছিনতাইয়ের জন্য ভ্যান চালকের অপেক্ষায় থাকে। এক সময় মিজানুরের দেখা পায় সে। মিজানুরকে নিয়ে এদিক সেদিক ঘুরতে থাকে। সন্ধ্যার দিকে পাশের বিরামপুর উপজেলার খাঁনপুর ইউনিয়নের ধনতলা গ্রামে এসে দু'জনে নেশা করে। এরপর বৃষ্টি এলে মিজানুরকে নিয়ে চাচার বাড়িতে যাওয়ার কথা বলে নবাবগঞ্জের পুলবান্ধা গ্রামে নিয়ে যায়। সেখানে একটি আমবাগানের পাশে জঙ্গলে গিয়ে মিজানুরকে হত্যা করে ভ্যানটি নিয়ে চলে যায় মোস্তফা।
বিরামপুর সার্কেলের এএসপি মিথুন সরকার বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, মূলত নেশাগ্রস্ততার পাশাপাশি অভাবের কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে মোস্তফা। মোস্তফা যে দোকান থেকে চাকু কিনেছে এবং বিরামপুরে যেখানে নেশা করেছে তারা মোস্তফাকে শনাক্ত করেছে। দিনাজপুর পুলিশ সুপারের সার্বিক দিক নির্দেশনায় খুব অল্প সময়ের মধ্যেই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন এবং হত্যাকারীকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। জবানবন্দির পর মোস্তফাকে সোমবার সন্ধ্যায় দিনাজপুর কারাগারে পাঠানো হয়েছে।