এক দিনের ব্যবধানে কাঁচা মরিচের দাম বাড়লো ৩০ টাকা

বাজারের কাঁচা মরিচ




নীলফামারীতে এক দিনের ব্যবধানে কাঁচা মরিচের দাম বেড়েছে কেজিতে ৩০ টাকা। শুক্রবার (২ অক্টোবর) যে মরিচ পাইকারি বাজারে ১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে শনিবার (৩ অক্টোবর) তা বিক্রি হচ্ছে ১৭০ টাকা দরে। যা খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১৮০-১৯০ টাকা কেজি দরে।
জেলা শহরের কিচেন মার্কেটের পাইকারি ব্যবসায়ী নুর ইসলাম ও আলম মিয়া বলেন, শুক্রবার কাঁচা মরিচ বিক্রি হয়েছে ১৪০ টাকা কেজি দরে। সেখানে আজ প্রতি কেজিতে দাম বেড়েছে ৩০ টাকা। এক দিনের ব্যবধানে এমন মূল্য বৃদ্ধিতে অস্থির হয়েছে ভোক্তরা। চড়া দামের এই বাজারে সবজি’সহ পেঁয়াজ, আদা, রসুন ও শুকনো মরিচের বিক্রিও কমেছে।
শনিবার সকালে ওই বাজার ঘুরে দেখা যায়, মরিচ’সহ ওইসব পণ্যের দামের ঊর্ধ্বগতি। পাইকারি দোকানে প্রকারভেদে প্রতি কেজি ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। খুচরা দোকানে বিক্রি হচ্ছে ১৮০-১৯০ টাকা দরে।
ওই বাজারের পাইকারি ব্যবসায়ী রহুল আমীন বলেন, শুক্রবার সকালে আড়তে প্রতি মন মরিচের দাম ছিল ৫ হাজার ৬০০ থেকে ৫ হাজার ৮০০ টাকা। শনিবার তা বেড়ে প্রতি মন ৬ হাজার ৮০০ থেকে ৬ হাজার ৯০০ টাকা।
একই বাজারের পাইকার ব্যবসায়ী রাজু ইসলাম বলেন, কাঁচা মরিচ প্রতিদিন মোকাম থেকে কিনে এনে বিক্রি করতে হয়। আড়তের দামের চেয়ে সামান্য লাভ করে খুচরা ব্যবসায়ী ও গ্রাহকের মাঝে বিক্রি করি। গতকালের তুলনায় আজ (শনিবার) পাইকারিতে প্রতি কেজি মরিচ চড়া দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
বাজারের খুচরা ব্যবসায়ী শাহ আলম বলেন, গতকাল প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ১৬০ দরে বিক্রি করলেও আজ আমদানি কম হওয়ায় তা ১৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে হচ্ছে। ভারতীয় ও মোকাম থেকে কাঁচা মরিচের সরবরাহ কমের কারণে দাম চড়া। তাই আমরা আমদানিকৃত মরিচের ওপর নির্ভরশীল। এছাড়া, বাজারে গ্রাহকও কমেছে। করোনা মহামারি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে মানুষ এখন কর্মহীন। দোকানে কেনা মরিচ বিক্রি না হলে পুরো লোকসান গুনতে হবে।
সবজি দোকান জেলা শহরের নিউবাবু পাড়া মহল্লার বাসিন্দা বুলু মিয়া বলেন, গতকাল খুচরা বাজারে প্রতি কেজি মরিচ বিক্রি হয়েছে ১৬০ টাকা আর যা আজ বিকালে ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা। আমাদের দৈনিক আয়ের ওপর বাজার করতে হয়। মরিচের দাম এত বেড়ে যাওয়ায় কিনতে সমস্যা হচ্ছে। অনেক দোকানে মূল্য তালিকাও নেই। বাজার মনিটরিংয়ের প্রয়োজন আছে বলে মনে করেন তিনি।
একই মহল্লার বাসিন্দা ইলিয়াস আলী বলেন, বর্ষার অজুহাতে আদা, রসুন, পেঁয়াজ ও মরিচের পাশাপাশি সবজির এমন বাজারে নাভিশ্বাস হয়েছে খেটে খাওয়া মানুষের।
এদিকে, এক দিনের ব্যবধানে খুচরা বাজারে প্রকার ভেদে আলু কেজিতে ৮ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা। কচুর বই ৮ টাকা বেড়ে ৩০, পটল ২০ টাকা বেড়ে ৭০, বরবটি ৪৫ টাকা থেকে বেড়ে ৬০, ঝিঙ্গা ১০ টাকা বেড়ে ৭০, ঢেঁড়শ ১০ টাকা বেড়ে ৬০, বেগুন ১৫ টাকা বেড়ে ৬০, চিচিঙ্গা ১০ টাকা বেড়ে ৫০, করলা প্রতি কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ৬০ টাকা।
শুকনো মরিচ ৩০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকা, শশা কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ৮০ টাকা, লেবু হালিতে ১০ টাকা বেড়ে ৪০ টাকা, লাউ প্রতি পিস ৩৫, কাচকলা প্রতি হালি ২০, পেঁপে কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৩০ ও আকার ভেদে কুমড়া প্রতি পিস ৪০ থেকে ৫০ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে।
জেলা প্রশাসনের মাকেটিং কর্মকর্তা এরশাদ আলম খান বলেন, আমরা নিয়মিত বাজার মনিটরিং করছি। তবে গত সাত দিনের টানা বৃষ্টির কারণে খুচরা বাজারে মরিচের আমাদানি কমে যাওয়ায় কিছু কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ওই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে গ্রাহকদের কাছে অতিরিক্ত মুনাফা আদায় করছে। আশা করি, শুকনো মৌসুমে কাঁচা মরিচ’সহ সবজির বাজার ধীরে ধীরে কমতে শুরু করবে। কয়েকদিনের মধ্যে নতুন সবজিতে বাজার ভরে যাবে।