শাখা যমুনার ভাঙনে বিলীনের পথে ঘরবাড়ি ও মসজিদ

 




ভাঙন কবলিত এলাকা দিনাজপুরের বিরামপুরে শাখা যমুনা নদীতে পানি বাড়ার হার কিছুটা কমলেও তীব্র ভাঙনের কবলে পড়েছে নদী তীরবর্তী এলাকা। ইতোমধ্যেই ভাঙনের কবলে পড়ে ২২টির মতো বসতবাড়ি ও জমিজমা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। তলিয়ে গেছে সবজিসহ বেশ কিছু ফসল। বিলীনের পথে আরও ১২টি বসতঘর, মসজিদ, প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কবরস্থান। তাই এসব রক্ষায় স্থায়ী বন্দোবস্ত করার দাবি স্থানীয়দের।







বিরামপুর শহরের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে শাখা যমুনা নদী। এটি বিরামপুর হাকিমপুর হয়ে ভারতের ভেতরে ঢুকে গেছে। এই নদীর তীরবর্তী বিরামপুর উপজেলাধীন একটি গ্রামের নাম মুন্সিপাড়া। সরেজমিন ওই এলাকা ঘুরে দেখা যায় নতুন করে পানি না হওয়ায় নদীতে পানি কিছুটা কমতে শুরু করেছে, তবে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে ওই এলাকায়।
মুন্সিপাড়া গ্রামের আব্দুল মাবুদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, এ বছর যে হারে নদীভাঙন ধরেছে গত বিশ বছরেও তা হয়নি। নদীর সীমানা ছিল অনেক দূরে, সেই অবস্থা থেকে ভাঙতে ভাঙতে গ্রামের কাছে চলে আসছিল। আমাদের বাাড়ির ২০-২৫ বিঘা জমির পাশে নদী ছিল। কিন্তু নদীর ভাঙনে ইতোমধ্যেই বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। যাদের জায়গা রয়েছে তারা অন্যত্র গিয়ে বাড়ি ঘর করছেন। কিন্তু আমার মতো যাদের জায়গা জমি নেই তারা আর কি করবো, তাই এখানেই কোনও রকমে পড়ে রয়েছি।
শওকত আলী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, নদীভাঙনের কবলে পড়ে ইতোমধ্যেই ২২টি পরিবার এই গ্রাম থেকে চলে গেছে, তাদের বাড়ি ঘর সব কিছু নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বর্তমানে নদীর তীরবর্তী আরও ১২টি পরিবার চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। যে কোনও সময় এগুলোও নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। আমার নিজের ২৫ বিঘার মতো জমি ছিল, যা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। একইভাবে আমাদের যে কবরস্থান ও স্কুল রয়েছে সেগুলোও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এছাড়াও অনেকের বিভিন্ন সবজিসহ ধানের আবাদ ছিল, নদী ভাঙনে সব শেষ হয়ে গেছে।
নদীভাঙনে হুমকির মুখে ঘরবাড়ি রেবেকা সুলতানা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, নদীর পাড়ের নিকট বাড়ি ছিল। ভাঙতে ভাঙতে তিনবার বাড়ির জায়গা পাল্টানোর পর বর্তমানে শেষ সীমানায় এসে গেছি। কিন্তু এবারের বন্যায় তীব্র ভাঙনের কবলে পড়ে আবারও আমার বাড়ির বারান্দাসহ আশেপাশের জায়গা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। কোনওরকমে ঘরটি দাড়িয়ে রয়েছে, কখন যে ভেঙে পড়ে সেই ভয়ে আছি। কিন্তু ভয় লাগলেও কি করবো, যাওয়ার মতো কোনও জায়গা যে নেই।
বিরামপুর পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর নুর আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, নদীভাঙন রোধে ইতোপূর্বে কয়েকবার পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে। কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ড বেশ কয়েকবার পরিদর্শন করে গেলেও কাজের কাজ কিছু হয়নি।
বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পরিমল কুমার সরকার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, বিরামপুর পৌরসভার পারভবানীপুর মুন্সিপাড়া গ্রাম ও মুন্সিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি শাখা যমুনা নদীর ভাঙনে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। ভবনটি রক্ষায় ইতোমধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে চিঠি দিয়ে বিষয়টি জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে গ্রামের অসহায় মানুষের বাড়ি ও প্রাথমিক বিদ্যালয়টি রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
দিনাজপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আসফাউদ দৌলা বলেন, স্থানীয় উপজেলা প্রশাসনের নিকট থেকে খবর পেয়ে ইতোমধ্যেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। সেখানকার সার্বিক অবস্থা ঊর্ধ্বতন কতৃপক্ষকে জানিয়েছি। কতৃপক্ষ সিদ্ধান্ত দিলে এ বছরই ভাঙন ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।