জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, জেলার ছয় উপজেলায় এই মৌসুমে এক লাখ ১৩ হাজার ৫৫ হেক্টর জমিতে আমনের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে ৯৪ হাজার ১৩০ হেক্টর জমিতে উফশি, ৫০৫ হেক্টরে স্থানীয় জাত এবং ১৮ হাজার ৪২০ হেক্টরে হাইব্রিট রোপা আমন ধান চাষ করা হয়েছে। এছাড়াও মোট আবাদের ৩৪ হেক্টর জমিতে সুগন্ধি ব্রি-ধান চাষ করা হয়েছে। কৃষকরা আশা করছেন, এ মাসের শেষের দিকে তাদের কাঙ্ক্ষিত সোনালি ধান কেটে ঘরে তুলতে পারবেন।
জেলার জলঢাকা উপজেলার খুটামারা ইউনিয়নের বড়ঘাট এলাকার ধানচাষি হবিবর রহমান বলেন, ‘এবার ২২ বিঘা জমিতে আমন ধানের চাষ করেছি। গত বোরো মৌসুমে ১২ বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছিলাম। আর এই মৌসুমে (বর্ষায়) প্রচুর বৃষ্টির পানি পাওয়ায় ২২ বিঘা জমিতে আমন লাগিয়েছি। ধানও খুব ভালো হয়েছে। ধান ক্ষেতে শীষ সোনার মতো জ্বলছে। বাজারে ভালো দাম পেলে লাভবান হতে পারবো।’
একই এলাকার বর্গাচাষি রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিবেশীর কাছ তেকে ৩ বিঘা জমি বর্গা নিয়ে হাইব্রিট ধানের চাষ করেছি। এই দোলায় (মাঠে) আমার মতো ধান কারো ফলেনি। বিঘায় ২০ মণ ধানের আশা করছি। প্রতিদিন আসি আর ধান কাটার স্বপ্ন দেখি। ধান কেটে ছেলে, মেয়ের লেখাপড়ার খরচ, কাপড় চোপড় কেনা, আর সংসারের বাকি ১০ মাস ভালোভাবে চলে যাবে।’
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক ওবায়দুর রহমান মণ্ডল বলেন, ‘গত কয়েক বছর ধরে স্থানীয় জাতের ধানের আবাদ কমে উফশি জাতের ধানের আবাদ বেড়েছে। মোট উফশির আবাদ হয়েছে ৯৪ হাজার ১৩০ হেক্টর। বেশি ফলন পাওয়ায় কৃষক এখন হাইব্রিড ও উফশি জাতের ধানের আবাদ বেশি বেশি করছে। আশা রাখছি, এসব ধানে এবারও বাম্পার ফলন হবে। বাজারে ধানের দাম ভালো পেলে কৃষকের স্বপ্ন শতভাগ পূরণ হবে।