ইউএনও অফিসের কর্মচারীকে মারধর: ইউপি সদস্যের ১ বছরের কারাদণ্ড

কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আবুল কাশেমকুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ের এক অফিস সহায়ককে (এমএলএসএস) মারধরের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় একই উপজেলার যাদুরচর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড ইউপি সদস্য আবুল কাশেমকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। গত ৩০ অক্টোবর কুড়িগ্রাম চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. সেফাতুল্লাহ এই আদেশ দেন। সোমবার (৩ নভেম্বর) কাশেম আলী আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। কুড়িগ্রাম জেলা কারাগারের জেলার শরিফুল আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আবুল কাশেম ২০১৬ সালে যাদুরচর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি একই ইউনিয়নের যাদুরচর পূর্বপাড়া গ্রামের আবু সাঈদের ছেলে।

আদালত সূত্র জানায়, মামলার বাদী ও রৌমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের এমএসএসএস মো. নজরুল ইসলাম ২০১৩ সালের ৩০ জুন রৌমারী উপজেলার কর্ত্তিমারী বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের একটি উচ্ছেদ অভিযানে সহায়তা করার জন্য যান। অভিযান চলাকালে আসামি আবুল কাশেমসহ আরও কয়েক ব্যক্তি উচ্ছেদ অভিযানে বাধা দিলে তাদের সঙ্গে নজরুল ইসলামের বাকবিতণ্ডা হয়। ওই দিন অফিস শেষে নজরুল ইসলাম বাড়িতে ফেরার পথে কর্ত্তিমারী বাজারে পৌঁছালে আসামিরা তার পথ রোধ করে বেদম মারপিট করে এবং তার মোবাইল ফোন ও নগদ অর্থ ছিনিয়ে নেয়। এসময় নজরুল ইসলামের চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করেন।

এ ঘটনায় নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে ইউপি সদস্য আবুল কাশেমসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে রৌমারী থানায় মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় গত ৩০ অক্টোবর কুড়িগ্রাম চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. সেফাতুল্লাহ আসামি আবুল কাশেমকে পেনাল কোডের ৩২৩ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং দুই হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন। ওই দিন আসামি আবুল কাশেম আদালতে অনুপস্থিত থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন আদালত। একইসঙ্গে মামলার অপর আসামিদের খালাস দেওয়া হয়।

আদালত সূত্র আরও জানায়, সোমবার (৩ নভেম্বর) সাজাপ্রাপ্ত আসামি ও ইউপি সদস্য আবুল কাশেম আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করলে আদালত আসামির আবেদন খারিজ করে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এ মামলায় আসামি পক্ষের আইনজীবী ছিলেন সরদার মো. তাজুল ইসলাম।