অভিনব কায়দায় বিদ্যুতের মিটার ‘অপহরণ’

HILI PIC 1দিনাজপুরের হিলিতে বিভিন্ন রাইস মিল ও ডিপ টিউবওয়েলের কাজে ব্যবহৃত বিদ্যুতের মিটার ‘অপহরণ’ করে অভিনব কায়দায় প্রতারণা করছে একটি চক্র। মিটার খুলে নিয়ে সেখানে গ্রাহকের জন্য রেখে যাচ্ছে চিরকুট। সেই চিরকুটে দেওয়া ফোন নম্বরে যোগাযোগ করলে টাকা দাবি করা হচ্ছে। বিকাশে টাকা দেওয়ার পরই মিলছে বিদ্যুতের মিটার।

শনিবার (১৪ নভেম্বর) ভোর রাতে হিলির ইসমাইলপুর সড়কের পাশের দুটি রাইসমিল এবং পাশের আবাদি ধানি জমিতে পানি দেওয়ার কাজে ব্যবহৃত ডিপ টিউবওয়েলের একটিসহ মোট তিনটি মিটার খুলে নিয়ে চিরকুট রেখে যায় দুর্বৃত্তরা।

রাইসমিল মালিক মোস্তাফিজার রহমান দুদু বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘প্রতিদিনের মতো সকালে কর্মচারীরা কাজ করতে গিয়ে দেখে বিদ্যুৎ নাই। পরে খবর দিলে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি মিটারের পাশে ছোট একটা কাগজে মোবাইল নম্বর রেখে গেছে দুর্বৃত্তরা। পরে ওই মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে অপর প্রান্ত থেকে জানানো হয় বিদ্যুতের মিটার ফিরে নিতে পাঁচ হাজার টাকা দিতে হবে। টাকা দিলে অল্প সময়ের মধ্যে মিটার ফেরত দেওয়া হবে।

HILI PIC 2একই এলাকার অপর রাইস মিলের মালিক অনুপ বলেন, ‘মিটার খুলে নিয়ে সেখানে একটি কাগজে নম্বর দিয়ে যায়। পরে ফোন দিলে পাঁচ হাজার টাকা দাবি করে। পরে সেই টাকা বিকাশ করা হলে তাদের দেওয়া তথ্যমতে পার্শ্ববর্তী ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের একটি খড়ের পালার ভেতর মিটারটি পাওয়া যায়।’

হাকিমপুর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান আকরাম হোসেন জানান, দুই মাস আগে একইভাবে ডাঙ্গাপাড়া গ্রামে দুইটি বিদ্যুতের মিটার চুরি হয়। পরে বিদুৎ অফিসে যোগাযোগ করে ১০ হাজার টাকা দিয়ে মিটার লাগানো হয়ে। এসব মিটার চোর চক্রকে ধরে আইনের আওতায় এনে ব্যবস্থা নিতে হবে।

হাকিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস ওয়াহিদ বলেন, ‘একটি চক্র বিদ্যুতের মিটার খুলে নিয়ে সেখানে চিরকুটে লিখে রাখে এই নাম্বারে যোগাযোগ করলে মিটার পেয়ে যাবে। যাদের মিটার নিয়ে গিয়েছে তারা থানায় আসার আগেই সেই চক্রের সঙ্গে যোগাযোগ করে টাকা দিয়ে মিটার নেওয়ার প্রক্রিয়া করে ফেলে। তারপরেও তাদের কাছ থেকে অভিযোগ নিয়েছি। যেহেতু চক্রটি বিকাশের মাধ্যমে টাকা নিয়েছে সেই জন্য চেষ্টা করছি চক্রটিকে শনাক্ত করতে।’