দিনাজপুরের হিলিতে আমন ধানের ক্ষেতে মাজরা ও কারেন্ট পোকার আক্রমণে ফলন কিছুটা কম হলেও ভালো দাম পাওয়ায় খুশি কৃষকরা। এতে করে উৎপাদন খরচ উঠিয়ে কিছুটা লাভের আশা করছেন কৃষকরা। সরকার নির্ধারিত ধানের দামের চেয়ে খোলা বাজারে মূল্য বেশি হওয়ায় সরকারকে ধান দিতে আগ্রহী নন এলাকার কৃষকরা।
ছাতনি চারমাথা গ্রামের কৃষক জোসেফ হাসদা বলেন, ‘চলতি আমন মৌসুমে স্বর্ণা জাতের ধান রোপন করেছিলাম। শুরু থেকেই ধানের গাছ খুব ভালো ছিল। ঠিক যখন গাছে ধান বেরোনোর সময় হয় তখনই মাজরা ও কারেন্ট পোকার আক্রমণ দেখা দেয়। এর ওপর ইদুরের আক্রমনও ছিল। আমি বেশ কয়েকবার কৃষি অফিসের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ ছিটিয়েছি। তাতেও কোনও ফল হয়নি। এতে করে আমার ধান ক্ষেতের মাঝে মাঝে ধান গাছ মরে গিয়ে ফাঁকা হয়ে যায়। প্রতিবছর আমরা বিঘা প্রতি (৩৩ শতক) ১৫-১৬ মণ করে ধান পেলেও এবারে পোকার আক্রমণ হওয়ায় উৎপাদন নিয়ে চিন্তিত ছিলাম। উৎপাদন খানিকটা কমে বিঘা প্রতি ১২-১৩ মণে দাঁড়িয়েছে। যার কারণে ধানের উৎপাদন খরচ উঠা নিয়ে সংশয়ে ছিলাম। কিন্তু ভালো দাম পাওয়ায় সে শঙ্কা অনেকটা কেটে গিয়েছে।’
জালালপুর গ্রামের কৃষক সুজন হোসেন ও জেসমিন আকতার বলেন, ধানে পোকার আক্রমণে ধানের উৎপাদন খানিকটা ব্যাহত হলেও গতবারের তুলনায় ভালো দাম পাওয়া যাচ্ছে। বর্তমানে প্রতিমণ ধান ১ হাজার ৫০ থেকে ১১০০ টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি করতে পাচ্ছি। এতে করে ধানের উৎপাদন খরচ মিটিয়ে আমাদের কিছু লাভ হচ্ছে। তবে ধানে পোকার আক্রমণ না থাকলে কৃষকরা আরও লাভবান হতো।
ছাতনি গ্রামের শরিফুল ইসলাম বলেন, গতবছর সরকারি খাদ্য গুদামে ধান দেওয়ার তালিকায় নাম উঠায় ১হাজার ৪০ টাকা দরে ২৫ মণ ধান সরবরাহ করেছি। এবারেও সরকার একই দাম নির্ধারণ করেছেন। কিন্তু সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে খোলা বাজারেই বেশি দামে ধান বিক্রি হচ্ছে। তাই এবারে সরকারি গুদামে ধান দিতে আগ্রহী নন কৃষকরা। কৃষকরা বাড়তি দাম যেখানে পাবেন সেখানেই দেবেন।
আড়তদাড় শাহ মোহাম্মদ বলেন, ‘আমরা স্বর্ণা জাতের ধান গৃহস্থের বাড়ি থেকে কিনছি ১১২০-১১৩০ টাকায়অ আর গুটি স্বর্ণা জাতের ধান কিনছি ১ হাজার ১০ থেকে ২০ টাকা মণ দরে। সরকার প্রতিমন ধান হাজার ৪০ টাকা নির্ধারণ করেছে। কিন্তু বাহিরের পার্টিদের বাড়তি চাহিদার কারণে আমরা সেই দামের চেয়ে বেশি মূল্যে কিনছি। যার কারণে সরকারের বেধে দেওয়া দামে ধান পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। ধানের আমদানি আছে, তবে এখনও ব্যাপক হারে শুরু হয়নি। কৃষকরা আমন ধান কাটা মাড়াই করার পর শুকিয়ে ধীরে ধীরে বিক্রি করেন।’
হাকিমপুর উপজেলা কৃষি অফিসার ড. মমতাজ সুলতানা বলেন, চলতি আমন মৌসুমে হাকিমপুর উপজেলায় ৮ হাজার ২১০ হেক্টর জমিতে আমন ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও আবাদ হয়েছিল ৮ হাজার ২২০ হেক্টর জমিতে। ইতোমধ্যেই ধান কাটা শুরু হয়েছে। প্রতি হেক্টরে হাইব্রিড জাতের ধানের চাল উপৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৩.৮৩ মেট্রিকটন থাকলেও আমরা পাচ্ছি ৩.৯৫ মেট্রিকটন। উফশি জাতের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২.৯২ মেট্রিকটন এর বিপরীতে আমরা পাচ্ছি ৩.১০ মেট্রিকটন। হাকিমপুর উপজেলায় চলতি মৌসুমে পোকামাকড় ও রোগ বালাইয়ের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে তেমন কোনও ক্ষতি পরিলক্ষিত হয়নি। কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ধানের ভালো দাম পাচ্ছেন ও তারা লাভবান হচ্ছেন।