নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ) বা নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র নেই। আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণ করা হলেও সেটি চালু না হওয়ায় এবং চিকিৎসক-নার্স-অ্যানেসথেসিস্টসহ জনবলের সংকট এবং অক্সিজেন সরবরাহ না থাকায় আইসিইউ চালুর কথা ভাবতে পারছে না জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। এ কারণে স্বাধীনতার ৫০ বছর পরে এসেও আধুনিক চিকিৎসা সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এলাকাবাসী।
সূত্র জানিয়েছে, ১৯৮৫ সালে সাড়ে সাত একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয় ৫০ শয্যা বিশিষ্ট নীলফামারী জেনারেল হাসপাতাল। সেখান থেকে ১০০ শয্যায় ও পরবর্তীতে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয় এই জেনারেল হাসপাতালকে। এ লক্ষে ২০১১ সালের জুলাই মাসে ২৭ কোটি ৬৬ লাখ ৩২ হাজার ১৭০ টাকা ব্যয়ে নতুন ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করে শেষ হয় ২০১৬ সালের জুন মাসে। বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান গণপূর্ত বিভাগ ২০১৯ সালের ৯ এপ্রিল ভবনটি স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে হস্তান্তর করে।
এদিকে, ভবনটি হস্তান্তর হলেও আজ পর্যন্ত সেটি চালুর কোনও লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। ফলে অবকাঠামোগত উন্নতি হলেও সেবার মান উন্নয়নে নেই কোনও কার্যকরী পদক্ষেপ। রয়েছে চিকিৎসক সংকট।
এছাড়াও হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাকাল থেকে পাঁচ শয্যার বক্ষব্যাধি বিভাগ চিরতরে বন্ধ হয়ে আছে। এতে কোটি টাকার যন্ত্রপাতি অকেজো হয়ে পড়ে আছে। এ ব্যাপারে নেই কারও মাথাব্যথা। ফলে আধুনিক চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে জেলাবাসী। জেলার ২০ লাখ মানুষের ভরসার কেন্দ্রবিন্দু হাসপাতালটি এখনও নিজেই সুবিধা বঞ্চিত, ফলে পুরো দায়িত্ব নিতে পারছে না জেলাবাসীর। আর তাই, কেউ গুরুতর অসুস্থ হয়ে এই হাসপাতালে এলে চিকিৎসকরা এখানে তাকে চিকিৎসা সুবিধা দিতে পারেন না। পাঠিয়ে দেন রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে।
নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (তত্ত্বাবধায়ক) ডা. মো. মেজবাহুর রহমান চৌধুরী বলেন, সম্প্রতি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে আমাদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে ২৫০ শয্যার হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র আছে কিনা, তা থাকলে কত শয্যার? আমরা জানিয়েছি, এখানে আইসিইউ সুবিধা নেই।’
তিনি বলেন, হাসপাতালে আইসিইউ স্থাপনের পূর্বশর্ত হলো শয্যার সংখ্যা অনুযায়ী জনবল থাকা। প্রত্যেক শয্যার বিপরীতে একজন করে নার্স, একটি কার্ডিয়াক মনিটর, সেন্ট্রাল অক্সিজেন সিস্টেম, একটি করে ভেন্টিলেশন, একজন অবেদন (অ্যানেসথেসিস্ট) চিকিৎসক, একজন মেডিকেল অফিসার ও একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অবশ্যই প্রয়োজন। এসবের কিছুই নেই এখানে।
তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা চাহিদাপত্র পাঠিয়েছি। ইতোমধ্যে নতুন সাততলা ভবনের ছয় তলায় আইসিইউ স্থাপনের সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। যন্ত্রপাতিসহ সকল উপকরণ দ্রুত পেয়ে যাবো।
জনবল সংকটের বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, আপাতত ৫০ শয্যা হাসপাতালের জনবল দিয়ে চিকিৎসাসেবা চালিয়ে যাচ্ছি। এরইমধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ২৫০ শয্যার হাসপাতালের জনবল মঞ্জুরি দিয়েছে। কিছুদিনের মধ্যে তা পদায়ন করা হবে।
নীলফামারী সিভিল সার্জন ডা. মো. জাহাঙ্গীর কবীর মোবাইল ফোনে জানান, হাসপাতালে আইসিইউ সুবিধা নেই। তবে নতুন ভবনের জায়গা বাছাইসহ যাবতীয় কাজ সম্পন্ন করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এছাড়াও, এই হাসপাতালে সেন্ট্রাল অক্সিজেন সাপ্লাই সিস্টেম চালুর কাজ ৭০ শতাংশ শেষ হয়েছে। আগামী মাস থেকে রোগীদের হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা দেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা করেন তিনি।