সৈয়দপুর পৌর নির্বাচনে ত্রিমুখী লড়াই, সুবিধা নিচ্ছে জাতীয় পার্টি

নীলফামারীর সৈয়দপুর পৌরসভার নির্বাচনি মাঠে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সুবিধা নিচ্ছে জাতীয় পার্টি। আর ভোট যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন মেয়র পদে পাঁচ প্রার্থী। এর মধ্যে ভোটারদের আলোচনায় রয়েছেন জাতীয় পার্টির সিদ্দিকুল আলম (লাঙল), আওয়ামী লীগের রাফিকা আকতার জাহান বেবী (নৌকা) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান মেয়র মো. আমজাদ হোসেন সরকার ভজে (নারিকেল গাছ)। ওই তিন প্রার্থীর জয় পরাজয় নির্ভর করছে পৌরসভার অবাঙালি (উর্দুভাষী) ভোটারদের ওপর। তাদের ভোট যেদিকে সেই প্রার্থীই নির্বাচিত হবেন। এই ধারণা এলাকাবাসীর অনেক পুরনো এবং বাস্তব।

অপর দুই প্রার্থী হলেন জেলা ইসলামী আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক হাফেজ মো. নুরুল হুদা (হাতপাখা) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক রবিউল আউয়াল রবি (মোবাইল ফোন)।

দলীয় প্রতীক নিয়ে নির্বাচনি মাঠে রয়েছেন জাতীয় পার্টির সিদ্দিকুল আলম। তিনি একজন শিল্পপতি। সৈয়দপুর শহর ঘিরে তার রয়েছে একাধিক শিল্প কারখানা। সেদিক থেকে সব শ্রেণি-পেশার ভোটারদের সমর্থন রয়েছে তার প্রতি। পাশাপাশি বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক না থাকায় ওই ঘরোনার ভোটাররাও ঝুঁকছেন তার দিকে।

এদিকে, আওয়ামী লীগের প্রার্থী রাফিয়া আকতার জাহান বেবী মাঠে রয়েছেন নৌকা প্রতীক নিয়ে। সম্প্রতি তার স্বামী মোটর শ্রমিক নেতা সাবেক পৌর মেয়র আখতার হোসেন বাদলের মৃত্যু হলে দলীয় মনোনয়ন গড়ায় তার দিকে। দলীয় এবং প্রয়াত স্বামীর ইমেজকে কাজে লাগিয়ে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন তিনি। জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগসহ অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা ভোট প্রার্থনার কাজে দিন রাত মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। সরকারের যাবতীয় উন্নয়নের কর্মকাণ্ড তুলে ধরে তারাও চেষ্টা চালাচ্ছেন অবাঙালি ভোটারদের শতভাগ মন জয়ের। অনেকেই প্রয়াত স্বামীর ভালো দিকগুলো তুলে ধরে স্ত্রীর জন্য ভোট প্রার্থনা করছেন।

এদিকে বিএনপি নেতা ও বর্তমান মেয়র মো. আমজাদ হোসেন সরকার ভজে নির্বাচনি মাঠে রয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে। তফশিল ঘোষণার পর থেকে অসুস্থতা জনিত কারণে ঢাকায় চিকিৎসাধীন। তার অনুপস্থিতিতে ভোটের মাঠে নারিকেল গাছ নিয়ে চলছে ভোট প্রার্থনা। দলের প্রার্থী না থাকায় এ প্রচারণায় সরব সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপির আহবায়ক অধ্যক্ষ মো. আব্দুল গফুর সরকারসহ নেতাকর্মীরা। বর্তমানে উর্দুভাষীরা আমজাদ হোসেনের ভোটব্যাংক হওয়ায় একাধিকবার মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।

ভোটাররা বলছেন, বিএনপির দলীয় প্রতীক না থাকায় দলের ভোটার এবং সমর্থকরাও রয়েছেন প্রতীকের দ্বন্দ্বে। তারা বলছেন, আমজাদ হোসেনের পক্ষে শক্ত প্রচারণার অভাবে এসব ভোট চলে যেতে পারে লাঙলের বক্সে।

লাঙলের প্রার্থী সিদ্দিকুল আলম বলেন, ‘আমি শুধু জাতীয় পার্টির প্রার্থী নই। বরং সবার মেয়রপ্রার্থী হিসেবে লাঙল মার্কায় ভোট চাই। ইতোমধ্যে সৈয়দপুরবাসীর কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পেয়েছি। আশাকরি তারা ভোট দিয়ে আমাকে নির্বাচিত করবেন। ভোটাররা প্রতিশ্রুতি রক্ষা করলে আমিও তাদের প্রত্যাশিত উন্নয়ন ও সামগ্রিক সুবিধা নিশ্চিত করতে নিজেকে সম্পূর্ণরুপে তাদের সেবায় নিয়োজিত করবো।’

অপরদিকে, চার বারের নির্বাচিত মেয়র আমজাদ হোসেন সরকারকে দলীয় প্রার্থী দাবি করে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. আব্দুল গফুর সরকার বলেন, ‘আমরা ঐক্যবদ্ধ। ব্যাপক প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছি। মেয়র আমজাদ পুনরায় নির্বাচিত হবেন। কারণ একজন ব্যক্তির কাছে প্রতীক বড় বিষয় নয়। এটাই প্রমাণ করে তিনি একজন যোগ্য নেতা ও চারবারের নির্বাচিত পৌর মেয়র।’

আওয়ামী লীগের প্রার্থী রাফিকা আকতার জাহান বেবী বলেন, ‘আমি রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান। বঙ্গবন্ধুর আর্দশ আমি ও আমার পরিবার লালন করে। তাই প্রধানমন্ত্রী আমাকে নমিনেশন দিয়েছে। আমার স্বামী আখতার হোসেন বাদল পৌর মেয়র ছিলেন। আমরা উন্নয়নের রাজনীতি করি। দলীয় নেতাকর্মীরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে জয়ের জন্য মাঠে কাজ করছেন। সরকারের উন্নয়নের জোয়ারে নৌকার জয় কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না।’

এদিকে সুষ্ঠু নির্বাচন ব্যবস্থাপনার জন্য নির্বাচন কমিশন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানান জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ফজলুল করিম। তিনি বলেন, বর্তমানে পাঁচ জন মেয়রপ্রার্থী রয়েছেন। ১৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে একটি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থীর মৃত্যু হওয়ায় ওই ওয়ার্ডটিতে ভোটগ্রহণ স্থগিত আছে। বাকি ১৪টি ওয়ার্ডে ৮১ জন সাধারণ কাউন্সিলর ও পাঁচটি সংরক্ষিত নারী কাউন্সিল পদে ২১ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

উল্লেখ্য, আগামী ১৬ জানুয়ারি এ পৌরসভায় ভোটগ্রহণ। পৌরসভাটিতে ভোটার সংখ্যা ৯৩ হাজার ৮৯৩ জন।