ভোটকেন্দ্রে হাতবোমা বিস্ফোরণের ঘটনা, কেন্দ্রের ভেতরে ব্যাপক বহিরাগতের অনুপ্রবেশ, ভোটারদের হাতের ছাপ নিয়ে তাদের কেন্দ্রে থেকে বের করে দেওয়াসহ নানা অনিয়মের মধ্যে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ঠাকুরগাঁও পৌরসভা নির্বাচন। রবিবার দুপুরের মধ্যে ভোটকেন্দ্রগুলোতে ক্ষমতাসীন দলের লোকজন ছাড়া বাকিদের বের করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ বিএনপি প্রার্থী শরীফ হোসেনের। তিনি অভিযোগ করেন, ৭ নং ওয়ার্ড নিশ্চিন্তপুর হাইস্কুল কেন্দ্রের বিএনপির এজেন্টদের হ্যান্ডকাফ লাগিয়ে পুলিশ আটক করে নিয়ে গেছে। ঐ কেন্দ্রে গিয়ে কোনও বুথেই বিএনপির কোনও পোলিং এজেন্টকেই পাওয়া যায়নি। এ ব্যাপারে জানার জন্য কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসারের খোঁজ করে তাকে কোথাও পাওয়া যায়নি। তার রুমের সামনে পাহারায় নিয়োজিত পুলিশ সদস্যরাও তিনি আছেন কিনা তা জানেন না বলে জানিয়েছেন।
আশ্রমপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেছে, প্রত্যেক বুথে বহিরাগতরা গোপন ব্যালটের পর্দার বাইরে দাঁড়িয়ে বলে দিচ্ছেন, এখানে এখানে টেপেন। শুধু মেয়র নয়, সরকার দলীয় কাউন্সিলরদেরও এভাবে জিতিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন, ওখানকার ঢেঁড়স মার্কার কাউন্সিলর প্রার্থী সফিউল এনাম পারভেজ । তিনি এখানে ৫ বারের নির্বাচিত কাউন্সিলর এবং ১৪ দলীয় জোটের অন্তর্ভুক্ত জাসদ (ইনু) গ্রুপের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত।
ঠাকুরগাঁও মহিলা কলেজ কেন্দ্রে ঘটেছে হাতবোমা বিস্ফোরণের ঘটনা। সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তানভিরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আমি ঘটনা শুনেছি। সাথে সাথে পুলিশি তৎপরতা বাড়িয়েছি। এটা কোনও ভারি বিস্ফোরক ছিল না। বিচ্ছিন্ন একটি ঘটনা মাত্র। তবে বিএনপির অভিযোগ ভোটারদের মধ্যে ভীতি সঞ্চারের জন্য আওয়ামী লগের সন্ত্রাসীরা এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে। নিশ্চিন্তপুর হাইস্কুলের ভোটার ফজলুল করিম (ডাবলু), যার ভোটার নং ৫৫৮, তিনি অভিযোগ করেন, ভোটকেন্দ্রে আমার নম্বরটা মেলানো হলো, আঙুলের ছাপ নিলো, তারপর ভেতর থেকে একজন এসে বললো, আপনি যান, আপনার ভোট হয়ে গেছে। এরকম আরেকজন ভোটবঞ্চিত চিৎকাররত নারী ভোটারের কাছে গেলে তাঁর রাগ গিয়ে পড়লো সাংবাদিকদের ওপর, তিনি বললেন,‘মিডিয়ার সাথে কথা বলে কী লাভ, সত্য কথা লেখেন নাকি আপনারা?’ এরকম আরও অনেক ভোটার মিডিয়ার সামনে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তবে বেশিরভাগ ভোটকেন্দ্রের ভোটাররাই চারপাশের সন্দেহজনক লোকজনের ভয়ে মুখ খুলছিলেন না।
বিএনপি প্রার্থীর অভিযোগ, সবগুলো কেন্দ্রে এভাবেই হচ্ছে ভোটের নামে আওয়ামী তাণ্ডব।
বেলা ১২-৩০ মিনিটে বিএনপির জেলা কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন ডাকে জেলা বিএনপি। জেলা সভাপতি তৈমুর রহমানের সভাপতিত্বে সেখানে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও বিদায়ী পৌর মেয়র মির্জা ফয়সাল আমীন এবং বিএনপির মেয়র প্রার্থী শরিফুল ইসলাম শরিফ। তারা নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ করেন এবং ধানের শীষের ভোটার পোলিং এজেন্টদের বের করে দিয়ে আওয়ামী লীগের সবগুলো ভোটকেন্দ্র দখলের অভিযোগ করেন। এ সময় জেলার প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক ছাড়াও বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
তবে, বিএনপির অভিযোগ অস্বীকার করে জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সাদেক কুরাঈশী বলেন, নৌকা মার্কার জয়জয়কার দেখে বিএনপির লোকজন প্রলাপ বকছেন।
চতুর্থ ধাপে পৌরসভা নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও পৌরসভায় ইভিএম ও রাণীশংকৈল পৌরসভায় ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে। আজ রোববার (১৪ ফেব্রæয়ারি) সকাল ৮টা থেকে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার ২১ টি কেন্দ্রে ও রাণীশংকৈল পৌরসভার ৯টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ চলছে।
ভোটগ্রহণ কার্যক্রমে সহিংসতা ঘটনা এড়াতে ও ব্যাপক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মোতায়ন করা হয়েছে র্যাব, বিজিবি, পুলিশ, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটসহ আনসার সদস্যদের।
ঠাকুরগাঁও পৌরসভার মোট ভোটার সংখ্যা ৬০ হাজার ৭শ ২৪ জন। এখানে ৩ জন মেয়র পদে, সংরক্ষিত আসনে ৯ জন, সাধারণ সদস্য পদে ৫৯ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এবং রাণীশংকৈল পৌরসভার মোট ভোটার সংখ্যা ১৪ হাজার ৫শ ২০ জন। এখানে মেয়র পদে ১২ জন, সংরক্ষিত আসনে ১৩ জন, সাধারণ সদস্য পদে ৩৩ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।