হিলিতে ধান ও চাল সংগ্রহ অভিযান ব্যর্থ

সরকারি দামের চেয়ে খোলা বাজারে ধানের দর বেশি থাকায় ও বাড়তি দামে ধান কিনে চাল করায় সরকার নির্ধারিত মূল্যে গুদামে ধান ও চাল সরবরাহ করছেন না কৃষক ও মিলাররা। দু’বার মেয়াদ বাড়িয়েও খাদ্যশষ্য ভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত দিনাজপুরের হিলিতে আমন মৌসুমে ধান ও চাল সংগ্রহ অভিযানে ব্যর্থ হয়েছে খাদ্য অধিদফতর। এতে সরকারের খাদ্য বান্ধব কর্মসূচিতে চাল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। 

গত বছরের ৬ ডিসেম্বর রবিবার হিলি এলএসডি খাদ্যগুদাম চত্বরে হাকিমপুর উপজেলা চেয়ারম্যান হারুন উর রশীদ হারুন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নূর- এ আলম কৃষকদের কাছ থেকে ধান ও চাল সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের দিন একজন কৃষকের কাছ থেকে এক টন ধান ক্রয়ের মধ্য দিয়ে ধান সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হয়। তবে পরে আর কোনও ধান সংগ্রহ করতে পারেনি গুদাম কর্তৃপক্ষ। এছাড়া সিদ্ধ ও আতপ মিলিয়ে ৩৩২ টন চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও এ পর্যন্ত মাত্র ১০২.৫০ টন চাল সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে।

হিলি এলএসডি খাদ্য গুদাম কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আমন মৌসুমে হাকিমপুর উপজেলায় কৃষকদের নিকট থেকে ২৬ টাকা কেজি দরে ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয় ৩৮০টন। তবে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ধান সংগ্রহের কথা থাকলেও কাঙ্খিত ধান না পাওয়ায় চলতি মার্চ মাসের ১৫ তারিখ পর্যন্ত এই সময় বৃদ্ধি করা হয়। এর পরেও কোনও কৃষক সরকারি খাদ্য গুদামে ধান সরবরাহ করছেন না, এ পর্যন্ত মাত্র একটন ধান সংগ্রহ করেছে হিলি এলএসডি খাদ্যগুদাম কর্তৃপক্ষ। এদিকে ৩৭ টাকা কেজি দরে ২৭৯টন সিদ্ধ চাল সরবরাহের জন্য উপজেলার ১২ মিলারের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হলেও মাত্র ৯ জন মিলার এ পর্যন্ত ৭৫ টন চাল সরবরাহ করেছেন। এর পর আর কোনও চাল সরবরাহ করেননি মিলাররা। এছাড়া ৩৬ টাকা কেজি দরে ৫৩টন আতপ চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও মাত্র একজন মিলার চুক্তিবদ্ধ হয়ে এ পর্যন্ত ২৭.৫০টন চাল সরবরাহ করেছেন।

হিলি এলএসডি খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা যোসেফ হাসদা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমন মৌসুমে সরকার নির্ধারিত ধান ও চাল সংগ্রহ অভিযানের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার একমাত্র কারণ হচ্ছে বাজারে ধান ও চালের ঊর্ধ্বমুখি অবস্থা। যেখানে বাজারে বর্তমানে চাল বিক্রি হচ্ছে ৪২ থেকে ৪৩ টাকা কেজি, সেখানে সরকারিভাবে চালের মূল্য নির্ধারিত হয়েছে ৩৬/৩৭ টাকা। এই মূল্যের তারতম্যের কারণে কোনও মিলার আমাদের চাল দেয়নি। এ পর্যন্ত যারাই চাল সরবরাহ করেছে তারা প্রথমের দিকে খানিকটা কম দামে হাজারের নিচে মন ধান কিনতে পেরেছে বলে দিতে পেরেছেন। বর্তমানে ধানের দাম এগারোশ’ পঞ্চাশ থেকে বারোশ’ টাকা। এই দামে ধান কিনে চাল উৎপাদন করতে ৪৩-৪৪ টাকার মতো খরচ পড়ে। যে কারণে কোনও মিলার চাল দিতে পারছেন না। একইভাবে খোলা বাজারে ধানের দাম বেশি পাওয়ায় কৃষকরা সরকারি খাদ্যগুদামে ধান সরবরাহ করছেন না। ফায়ার সার্ভিস, আনসার, ভিজিডি এগুলো খাদ্যবান্ধব, এছাড়া টিআর কাবিখা এগুলোর চাল আমাদের খাদ্যগুদাম থেকে সরবরাহ করতে হয়। কিন্তু ধান ও চাল সংগ্রহ অভিযান ব্যর্থ হওয়ার কারণে এগুলোতে চাল সরবাহ ব্যহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বর্তমানে আমাদের খাদ্যগুদামে যে পরিমাণ চাল মজুদ রয়েছে তাতে করে জুন পর্যন্ত চলবে বলে জানান তিনি।