লাশ কে নেবে এ নিয়ে জিআরপি ও পুলিশের মাপামাপি

শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন, চোখ দুটো খেয়ে ফেলেছে পোকামাকড়ে। এভাবেই আনুমানিক গত তিনদিন থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তিটির লাশ পড়েছিল রেললাইনের পাশে।

আজ (সোমবার ৫ এপ্রিল) খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে জিআরপি এবং বিরামপুর থানা পুলিশ। কিন্তু লাশটি কে নেবে তা নিয়ে আইনগতভাবে শুরু হয় জিআরপি এবং পুলিশের মধ্যে মাপামাপি। অবশেষে বিরামপুর থানা পুলিশ লাশটি গ্রহণ করেন।

ঘটনাটি ঘটেছে দিনাজপুর জেলার বিরামপুর উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের মৌপুকুর গ্রামের রেললাইনের পাশে।

বিরামপুর থানার ওসি মনিরুজ্জামান জানান, মৌপুকুর গ্রামে রেললাইনের পাশে অজ্ঞাত যুবকের লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা থানা পুলিশে খবর দেয়। সেই সঙ্গে বিরামপুর থানা পুলিশের কাছ থেকে খবর পেয়ে জিআরপি পার্বতীপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। লাশটি রেললাইন থেকে আইন অনুযায়ী নির্ধারিত দূরত্বের চাইতে দূরে পড়ে থাকার অজুহাত দেখিয়ে জিআরপি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে লাশ নিতে অস্বীকৃতি জানায়।

পার্বতীপুর জিআরপি থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, আইন অনুযায়ী রেললাইনের দশ ফুটের মধ্যে কোন লাশ পড়ে থাকলে সেটির দায়িত্ব জিআরপি থানা পুলিশের। কিন্তু লাশটি পড়েছিল ১১ ফুট দূরত্বে। তাই তারা লাশটি গ্রহণ করেনি। তাছাড়া লাশটি রেল দুর্ঘটনারও নয়। ওই অজ্ঞাত ব্যক্তিকে দুষ্কৃতিকারীরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে ঘটনাটাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য লাশটি রেললাইনের পাশে রেখে যায়।

বিরামপুর থানার ওসি মনিরুজ্জামান জানান, লাশটি রেললাইন থেকে ৯ ফুট দূরত্বে ছিল। জিআরপি পুলিশ দায়িত্ব এড়ানোর জন্য রেললাইনের মূল লোহার অংশ থেকে মেপেছে। ওই অজ্ঞাত ব্যক্তির পশ্চাদ্দেশে কালো আঘাতের চিহ্ন রয়েছে; যা দেখলে বুঝা যায় ওই ব্যক্তির মৃত্যু রেলের ধাক্কায় হয়েছে। ওই ব্যক্তিকে অন্যস্থানে হত্যা করলে শ্বাসরোধ, ছুরিকাঘাত অথবা গভীর ক্ষতের চিহ্ন থাকতো। লাশের পরনে ছিলো ছাই রঙয়ের ফুলহাতা গেঞ্জি আর লাল পাড়ের সাদা রঙয়ের লুঙ্গি।

ওসি মনিরুজ্জামান আরও জানান, লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য দিনাজপুর এম. আব্দুর রহিম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।