হিলি দিয়ে ভারতফেরতদের করোনা টেস্ট শুরু

চিকিৎসা নিতে গিয়ে আটকে পড়া ভারতফেরতদের হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে করোনার অ্যান্টিজেন টেস্ট শুরু করেছে স্থানীয় স্বাস্থ্যবিভাগ। এদিকে ভারত থেকে আগতদের করোনা টেস্ট শুরু হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে স্থানীয়দের মধ্যে।

গত বৃহস্পতিবার (২০ মে) দেশের জনপ্রিয় অনলাইন পত্রিকা বাংলা ট্রিবিউনে ‘করোনা টেস্ট করা হচ্ছে না ভারতফেরত যাত্রীদের, করোনা সংক্রমণের শঙ্কায় স্থানীয়রা’ এমন রিপোর্ট প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসে স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্যবিভাগ। পরে শুক্রবার (২১ মে) সকাল থেকে ভারত থেকে আগত সব যাত্রীদের করোনা পরীক্ষার জন্য র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট ও আরটিপিসিআর টেস্টের জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে।

এছাড়া ভারত থেকে দেশে ফেরা ২১ জনের মধ্যে সন্ধ্যায় ১৭ জনের অ্যান্টিজেন টেস্ট ও আরটিপিসিআর টেস্টের নমুনা সংগ্রহ করে কর্তৃপক্ষ। তবে এর আগের দিনে আসা ৩৭ জনের কারও পরীক্ষা বা নমুনা সংগ্রহ করা হয়নি। এদিকে শুক্রবার বিকাল ৪টা পযর্ন্ত মোট ১১ জন যাত্রী ভারত থেকে দেশে ফিরেছেন।

হিলির উত্তরবাসুদেবপুর এলাকার বাসিন্দা রেজাউল করিম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ভারতে করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার অনেক বেশি। এর উপর ভারতে নতুন ধরনের করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ দেখা দিয়েছে, যা নাকি অনেক দ্রুত ছড়াচ্ছে। এ কারণে ভারতে আটকে থাকা বাংলাদেশিদের দেশে ফেরত আসার পর সংক্রমণের ঝুঁকি রয়েছে। এক্ষেত্রে তাদের করোনা টেস্ট জরুরি। তবে বুধবার থেকে ভারতে আটকে পড়া বাংলাদেশিরা হিলি দিয়ে প্রবেশ শুরু করলেও তাদের কোনও পরীক্ষা করা হচ্ছিলো না। যা, করোনার ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি করেছে। এখন পরীক্ষা শুরু হওয়ায় আমাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।

হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল কর্মকর্তা ডা. গাদ্দাফি শিকদার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, নির্দেশনা না থাকার কারণে প্রথম দিন ভারত থেকে দেশে ফেরা বাংলাদেশিদের করোনা টেস্ট বা নমুনা সংগ্রহ করা হয়নি। তবে বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে নির্দেশনা পাওয়ার পর র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট করছি এরপরে তাদের আরটিপিসিআর টেস্টের জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। আর করোনা টেস্টের নিয়ম হলো যাদের অ্যান্টিজেন টেস্টে করোনা পজিটিভ ধরা পড়ে, তাদের আরটিপিসিআর টেস্টের জন্য পাঠানো দরকার নেই। আর যদি অ্যান্টিজেন টেস্টে রিপোর্ট নেগেটিভ আসে, তাহলে তাদের নমুনা আরটিপিসিআর টেস্টের জন্য পাঠানো হবে।

তিনি আরও জানান, বুধবার যে ৩৭ বাংলাদেশি নাগরিক ভারত থেকে দেশে ফিরেছে, তারা সবাই স্থানীয় তিনটি আবাসিক হোটেলে ১৪দিনের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন। তাদের মধ্যে যদি কারও লক্ষণ দেখা দেয়, তাহলে তাদের নমুনা সংগ্রহ করে আরটিপিসিআর টেস্টের জন্য পাঠানো হবে। কারও করোনার রিপোর্ট পজিটিভ আসলে তাদের নির্ধারিত আইসোলেশন সেন্টারে পাঠানো হবে বলে জানান তিনি। তবে এখন পর্যন্ত যাদের টেস্ট হয়েছে তাদের মধ্যে কারও করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসেনি বলে জানান তিনি।