চোখ, নখ, নাভি, হাতের তালু, বাহু, পায়ের পাতা, ঘাড়, মুখ; মোটকথা গোটা শরীরের এমন কোনও অঙ্গ নেই যেখান দিয়ে রক্ত ঝরছে না তার। কখনও দিনে ৫/৬ বার। কখনও সপ্তাহে এক-দুইবার। হুটহাট কখন বের হবে রক্ত, আগাম বলাও যায় না। রক্ত বের হওয়া শুরু হলে বেড়ে যায় শ্বাসকষ্ট। কুঁকড়ে আসে হাত-পা। গত একবছর ধরে বিরল এ রোগে ভুগছে দিনাজপুরের ১২ বছর বয়সী আশিকা জান্নাত।
গত এক বছরে শিশুটিকে অন্তত ৬ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কেউই ধরতে পারেননি রোগের কারণ।
তবে এখনও ঢাকা কিংবা দেশের বাইরের কোনও হেমাটোলজিস্টের কাছে নেওয়া সম্ভব হয়নি জান্নাতকে। বাধ সেধেছে সামর্থ। বস্তা তৈরির মিলে কাজ করা বাবার পক্ষে অতো টাকা যোগাড় করা নিতান্তই অসম্ভব।
আশিকা জান্নাত দিনাজপুর শহরের ৪নং উপশহরের বাসিন্দা আলমগীর হোসেন ও মাহফুজা খাতুনের মেয়ে। সে দিনাজপুর পুলিশ লাইনস উচ্চ বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণিতে পড়ছে।
শিশুটির পরিবার সূত্রে জানা যায়, আগে এ সমস্যা ছিল না আশিকার। গতবছরের মে মাসের একদিন শুরু হয় রক্ত বের হওয়া। কয়েকদিনের মধ্যেই চোখ, মুখ ও নখ দিয়ে রক্ত বের হতে থাকলে তাকে দ্রুত দিনাজপুর এম. আব্দুর রহিম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সেখানে তিনদিন ভর্তি থাকে। রক্ত পড়া বন্ধ হলে আবার বাড়িতে নিয়ে আসা হয়।
কিছুদিন যেতেই আবারও রক্ত বের হলে একে একে ছয়জন চিকিৎসকের পরামর্শ নেয় পরিবারটি। কিন্তু শনাক্ত হয়নি রোগ। সর্বশেষ দিনাজপুর পরমাণু চিকিৎসা কেন্দ্রের চিকিৎসক ডা. বিকে বোসের পরামর্শ নিয়েছেন তারা। চিকিৎসক তাদেরকে হেমাটোলোজিস্ট, হেমাটোএনটোলজিস্ট বা পেডিয়াট্রিক্স হেমাটোএনটোলজিস্ট দিয়ে পরীক্ষা করাতে বলেছেন।
জান্নাত বলে, ‘যখন মাথা থেকে রক্ত বের হয় তার আগে মাথা ব্যথা করতে থাকে। নাভি থেকে রক্ত বের হয় তখন জ্বালাপোড়া করে। নখ থেকে বের হওয়ার সময়ও নখে ব্যথা করে। রক্ত বের হওয়ার আগে আমি ব্যথা টের পাই। ঠিকমতো খেতে পারি না, দুর্বল লাগে, শ্বাস নিতে কষ্ট হয়।’
আশিকার মা মাহফুজা খাতুন বলেন, ‘যখন পা দিয়ে রক্ত বের হয় ব্যথায় সে পা তুলতে পারে না। পুরো শরীর নিস্তেজ হয়ে যায়। হোমিও এবং কবিরাজি চিকিৎসাও নিয়েছি। কিন্তু কেউই সারাতে পারেনি। মেয়েকে নিয়ে ঢাকা বা বাইরে কোথাও নিয়ে যেতে বলেন সবাই। কিন্তু আমাদের সামর্থ্য নেই। এখন কোনও হৃদয়বাণ ব্যক্তি এগিয়ে এলে আমার মেয়েটা বাঁচবে।’
আশিকার বাবা আলমগীর হোসেন বলেন, ‘আমার বেতন কম। যা পাই তা দিয়েই স্ত্রী, দুই মেয়ে ও মাকে নিয়ে কোনওমতে দিন কাটাই। সমাজের বিত্তবানদের কাছে তাই মেয়ের চিকিৎসার জন্য আরজি জানাচ্ছি।’
এ ব্যাপারে দিনাজপুর পরমাণু চিকিৎসা কেন্দ্রের ডা. বি কে বোস বলেন, ‘শিশুটিকে দেখেছি। এর আগের পরামর্শপত্রও দেখেছি। রোগীর শরীর থেকে রক্ত বের হওয়ার ভিডিওগুলো দেখেছি। হেমোফেলিয়ার যে বিষয়গুলো সেগুলোও দেখেছি। তবে রোগীর ক্রনিক পেইন নেই। হেমাথ্রসিসের ইতিহাসও নেই। এই রোগী আমার কাছে নতুন মনে হয়েছে। এটা এক ধরনের ব্লিডিং ডিসঅর্ডার। হেমাটোলোজিস্ট, হেমাটোএনটোলজিস্ট কিংবা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের দিয়ে পরীক্ষার মাধ্যমে তাকে দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া উচিৎ।’
আশিকা জান্নাতের চিকিৎসার জন্য সাহায্য পাঠানোর হিসাব নম্বর- ডাচ বাংলা ব্যাংক, দিনাজপুর শাখা, একাউন্ট- ১৭২১৫১১২১০১১ অথবা বিকাশ ০১৩০২১৮৩৩৬৭।