ভিজিডির চাল আত্মসাৎ: চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ১৯ দুস্থ নারীর জিডি

নীলফামারীর ডিমলার টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ময়নুল হকের বিরুদ্ধে ১৯ জন হতদরিদ্র নারী চাল আত্মসাতের অভিযোগ করেছেন। তারা জানান, দুস্থ নারী উন্নয়ন কর্মসূচি-ভিজিডির আওতায় ছয় মাস ধরে ওই চাল চেয়ারম্যান আত্মসাৎ করে আসছেন। রবিবার (১ আগস্ট) দুপুরে এই দুস্থ নারীরা তাদের নামের কার্ড ও বরাদ্দের চালের দাবিতে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

জানা যায়, চলতি ২০২১-২০২২ অর্থ বছরে দুই বছর মেয়াদে ভালনারেবল গ্রুপ ডেভেলপমেন্ট (ভিজিডি) উপকারভোগীদের মধ্যে ৩০ কেজি করে চাল দেয় মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে। এই কর্মসূচি গ্রামীণ দুস্থ নারীদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নে বাস্তবায়িত একটি অন্যতম সামাজিক নিরাপত্তামূলক কার্যক্রম। যা সম্পূর্ণরূপে দুস্থ পরিবার বিশেষত নারীদের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করে।

উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদফতর সূত্র জানায়, এবার অনলাইনের মাধ্যমে ভিজিডির আবেদন গ্রহণ করা হয়েছিল। এতে ইউনিয়নে চলতি চক্রে ৩৩৬টি কার্ড বরাদ্দ দেওয়া হয়। যার মাধ্যমে ভিজিডি কার্ডধারী উপকারভোগী নারীদের মাসিক ৩০ কেজি প্যাকেটজাত খাদ্য (চাল) সহায়তা দেওয়া হয়ে থাকে।

এদিকে, ১৯ জন নারী অভিযোগ করা জানান, চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে এই চাল প্রদান শুরু হয়। কিন্তু তাদের নামে কার্ড থাকলেও ইউপি চেয়ারম্যান বিষয়টি গোপন রেখে জানুয়ারি থেকে জুন পযন্ত ৩০ কেজি করে মোট ৩ হাজার ৪২০ কেজি চাল উত্তোলন করে আত্মসাৎ করে আসছেন।

বিষয়টি জানার পর তারা উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদফতরে গিয়ে নামের তালিকা সংগ্রহ করেন। এতে দেখা যায়– ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ১৮ নম্বর কার্ডধারী সালমা খাতুন, ৩৮ নম্বর কার্ডধারী আছিয়া খাতুন, ৪৪ নম্বর কার্ডধারী হামিদা বেগম, ৬০ নম্বর কার্ডধারী শাহিদা বেগম, ২৩ নম্বর কার্ডধারী তহমিনা খাতুন, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ৫৪ নম্বর কার্ডধারী ফৌজিলা বেগম, ৬১ নম্বর কার্ডধারী মাজেদা খাতুন, ১১ নম্বর কার্ডধারী শিল্পী আক্তার, ৫২ নম্বর কার্ডধারী মোরশেদা বেগম, ২২ নম্বর কার্ডধারী আতোয়ারা বেগম, ১০ নম্বর কার্ডধারী মোছা. পারভিন, ৩৭ নম্বর কার্ডধারী ময়না বেগম, ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ১২ নম্বর কার্ডধারী রোকেয়া বেগম, ২ নম্বর কার্ডধারী লাকি বেগম, ১৯ নম্বর কার্ডধারী আছিয়া বেগম, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ৯ নম্বর কার্ডধারী পারভিন বেগম, ২৮ নম্বর কার্ডধারী আছিয়া বেগম, ১৩ নম্বর কার্ডধারী রশিদা বেগম, ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ২১ নম্বর কার্ডধারী মোছা. মাজেদার নামে কার্ড বরাদ্দ রয়েছে।

এই নারীরা আরও জানান, তারা তালিকা নিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান ময়নুল হকের কাছে গেলে তিনি বলেন, ‘তোমাদের নামে বরাদ্দ নেই।’ তাই তারা বাধ্য হয়ে বিষয়টি লিখিতভাবে জেলা প্রশাসককে অভিযোগ করেন ও  ডিমলা থানায় জিডি করেন।

উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা পূরবী রানী রায় বলেন, ‘ডিসি স্যার তদন্তের জন্য আমাদের কাছে পাঠিয়েছেন। যার নামে কার্ড বরাদ্দ হয়েছে, নীতিমালা অনুসারে তিনিই চাল পাবেন। জনপ্রতিনিধির কাছে কার্ড রাখার কোনও নিয়ম নেই। ঘটনাটি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়রি পাশাপাশি পুলিশের পক্ষেও বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

এদিকে, ইউপি চেয়ারম্যান ময়নুল হক তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সত্য নয় বলে দাবি করেন।