তারেক রহমানকে দেশে আনার দাবি রেজিয়ার স্বজনদের

দীর্ঘ কয়েক বছর শয্যাশায়ী ছিলেন আফাজ উদ্দিন। মৃত্যুর আগে মেয়ের হত্যাকারীদের বিচার দেখে যেতে চেয়েছেন। কিন্তু ১৭ বছরেও বিচারের রায় কার্যকর হয়নি। ২০১৭ সালে তিনি মারা যান। খুনিদের শাস্তি দেখে যাওয়া হলো না তার। গ্রেনেড হামলায় নিহত হন আফাজ উদ্দিনের মেয়ে রেজিয়া বেগম। আফাজ উদ্দিনের মতো অনেক বাবা সন্তান হত্যার বিচার না দেখে পৃথিবী ছেড়েছেন। তাদের স্বজনরা এখনও অপেক্ষায় আছেন। যেমন অপেক্ষায় রয়েছেন রেজিয়ার স্বজনরা।

রেজিয়া বেগম আওয়ামী লীগের কর্মী ছিলেন। রংপুরের কাউনিয়ার বাসিন্দা তিনি। ঘাতকদের রায় কার্যকর করতে আর কত বছর অপেক্ষা করতে হবে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন রেজিয়ার ছেলে।

যেভাবে নিহত হন রেজিয়া বেগম: 

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের সড়কে মহানগর আওয়ামী লীগের সমাবেশ ছিল। সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সমাবেশ শেষে সন্ত্রাসবিরোধী শান্তি মিছিল বের করার কথা ছিল। শান্তি মিছিলে নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার। 

অন্যান্যদের মতো রেজিয়া বেগম মহিলা আওয়ামী লীগের কর্মী হিসেবে সমাবেশে যোগ দিয়েছিলেন। মিছিল শুরুর আগ মুহূর্তে ট্রাকের ওপর নির্মিত খোলা মঞ্চে দাঁড়িয়ে শেখ হাসিনার বক্তব্য শুনছিলেন। বক্তব্য চলা অবস্থায় বিকাল ৫টা ২২ মিনিটে তাকে লক্ষ্য করে গ্রেনেড হামলা শুরু হয়। বিকট শব্দে পরপর বিস্ফোরিত হয় ১৩টি গ্রেনেড। 

এ সময় প্রাণে বেঁচে যান শেখ হাসিনা। তারপরও শেখ হাসিনার গাড়ি লক্ষ্য করে ১২টি গুলি ছোড়া হয়। নারকীয় ওই হামলায় মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী আইভি রহমান ও রেজিনা বেগমসহ ২৪ জন প্রাণ হারান। আহত হন কয়েকশ নেতাকর্মী।

স্বজনরা জানান, কাউনিয়া উপজেলার গঙ্গানারায়ণ গ্রামের আফাজ উদ্দিনের মেয়ে রেজিয়া বেগম ১৯৯০ সালে কাজের সন্ধানে ঢাকায় পাড়ি জমান। রাজধানীর বাড্ডায় ভারতীয় ভিসা অফিসে ছবি লাগানোর কাজ করতেন। ভাড়া বাসায় থাকতেন একই এলাকায়। সেখানে মহিলা আওয়ামী লীগের নেত্রী আয়শা মোকারমের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে রেজিয়া আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। বিভিন্ন সমাবেশে মিছিলে সক্রিয় ছিলেন।

২১ আগস্ট সমাবেশে যোগদানের জন্য আয়শা মোকাররমের নেতৃত্বে একটি মিছিল বের হয়। মিছিলে রেজিয়াও ছিলেন। সমাবেশ শেষে মিছিল বের হওয়ার আগেই গ্রেনেডের আঘাতে সভাস্থলেই নিহত হন রেজিয়া। পরদিন তার ছোট ছেলে নুরনবী মায়ের লাশ শনাক্ত করেন। এরপর আজিমপুর কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। 

একই সালে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে নিহতের পরিবারের জন্য দেওয়া হয় এক লাখ ২৫ হাজার টাকা। ২০১৩ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে তার পরিবারকে আট লাখ টাকা দেওয়া হয়। তাদের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল, রেজিয়ার সন্তান কিংবা স্বজনদের সরকারি চাকরি দেওয়ার। সেটি আট বছরেও বাস্তবায়ন হয়নি। এখন তাদের চাওয়া রায় কার্যকর করা। 

রেজিয়ার বড় বোন আনোয়ারা বেগম বলেন, প্রতি বছর ২১ আগস্ট এলে টেলিভিশনে ঘটনা দেখি আর চোখের পানি ফেলি। এ ছাড়া কিবা করার আছে আমাদের?।

রেজিয়ার বড় ছেলে হারুনুর রশিদ বলেন, ৩৯ বছর পর হলেও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিচার হয়েছে। আমার বিশ্বাস আছে, মা হত্যারও বিচার পাবো।

ছোট ছেলে নুরন্নবী বলেন, আমরা পুরো পরিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে কৃতজ্ঞ। এ সরকারের আমলেই খুনিদের রায় কার্যকর হোক, এটাই আমার চাওয়া। একই সঙ্গে ঘটনার মূল হোতা তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনা হোক। তাহলেই আমার মায়ের আত্মা শান্তি পাবে।

বালাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আনছার আলী বলেন, চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে নিহত রেজিয়ার পরিবারের সদস্যদের সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দিয়েছি। যেহেতু পরিবারের উপার্জনক্ষম মানুষ নেই, সে জন্য সাধ্যমতো তাদের সহায়তার চেষ্টা করছি।