পানি কমলেও, তিস্তার ভাঙনে দিশেহারা হাজারো মানুষ 

নীলফামারীর ডিমলা ডালিয়া পয়েন্টে বুধবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ৫৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। ওই পয়েন্টে বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ৬০ সেন্টিমিটার। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) গেজ পাঠক (পানি পরিমাপক) মো. নুরুল ইসলাম পানি কমার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তবে জেলার ডিমলা উপজেলার ঝুনাগাছ চাপানি ইউনিয়নের ভেন্ডাবাড়িতে তিস্তার নদীর স্পার বাঁধে ভাঙনের কারণে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ৭০০ পরিবার। পরিবারগুলো ঘর-বাড়ি সরিয়ে নিলেও ভিটে-মাটি হারিয়ে এখন দিশেহারা তারা।

পানি পরিমাপক মো. নুরুল ইসলাম বলেন, মূলত তিস্তার পানি উজানের পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টির ফলে ডালিয়া পয়েন্টে পানি বাড়া-কমা করে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ব্যারাজের উজান ও ভাটি অঞ্চলের মানুষ। জেলার ডিমলা উপজেলার ঝুনাগাছ চাপানি ইউনিয়নের ভেন্ডাবাড়িতে তিস্তার নদীর স্পার বাঁধে ভাঙনের কারণে ক্ষতির মুখে পড়েছে প্রায় ৭০০ পরিবার। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খাওয়ার পানি সংকট ও গবাদিপশুর খাবারের চরম সংকট দেখা দিয়েছে।

এলাকার বাসিন্দা আজিজুল ইসলাম (৫৬) বলেন, তিস্তার পানির স্রোতে ভেন্ডাবাড়ি এলাকার নদী শাসন বাঁধের ডান তীরের দুই নম্বর স্পার বাধটি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় পাশের আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৪০টি পরিবারের মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকু এখন নদী গর্ভে। ডান তীর বাঁধের নিয়ন্ত্রক এই স্পার বাঁধটি রক্ষায় রবিবার (২৯ আগস্ট) সকাল থেকে বালুর বস্তা ফেলেও কোনও লাভ হয়নি। রাতে বাঁধের প্রায় দুইশ’ মিটার ভেঙে গেলে উপজেলার ভেন্ডাবাড়ি এলাকার এক হাজার পরিবার হুমকির মুখে পড়ে।

স্পার বাঁধের বাসিন্দা রবিউল ইসলাম (৫৬) বলেন, ভাঙনে জমি-জমা ঘর-বাড়ি সব গেইছে নদীত। এখন হাত-পা ছাড়া কিছুই নাই। বাঁধের ওপর কোনোভাবে পলিথিন টাঙ্গি রাত কাটাইছি। এইবার সেটাও ভাসি গেইছে। এখন হামার কী হবে, আল্লাহ্ জানেন।

পাউবো সূত্র জানায়, স্পার বাঁধটির মাঝখানে বালুর বস্তা ফেলে রক্ষা করা হয়। কিন্তু গতকাল বাঁধের শেষ অংশে ভাঙনের সৃষ্টি হয়। সেখানে এক হাজার বালুর বস্তা ফেলেও মধ্যরাতে রক্ষা করা যায়নি। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাঁধ সংলগ্ন বহু পরিবার।

উপজেলার ঝুনাগাছ চাপানি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমিনুর রহমান বলেন, স্পার এলাকার এক হাজার পরিবার তিস্তার পানি কমায় বিড়ম্বনায় পড়েছে। হুমকির মধ্যে রয়েছে ভেন্ডাবাড়ি ও ছাতুনামার চরের হাজারো বানভাসি পরিবার।

তিনি আরও বলেন, ভেন্ডাবাড়ি চরের দুই নম্বর স্পার বাঁধটি রক্ষায় কয়েকদিন থেকে কাজ করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। রবিবার (২৯ আগস্ট) মধ্যরাতে পানির তোড়ে ভেঙে গিয়ে প্লাবিত হয়েছে আশপাশের এলাকা। সেখানে জেলা প্রশাসনের পক্ষে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ১৭ পরিবারকে তিন হাজার করে টাকাসহ অন্যান্যদের জন্য তিন মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আসফাউদৌলা প্রিন্স বলেন, তিস্তার পানি কমলেও ভাঙন কমেনি। বুধবার দুপুর ১২ টা থেকে বিকাল ৩ টা পর্যন্ত বিপৎসীমার ৫৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হলেও ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। এতে ডান তীরের স্পার বাঁধটির দুইশ’ মিটার ধসে পড়েছে। হাজার হাজার বালুর বস্তা ফেলে তা রক্ষা করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আশাকরি, ভাঙনের কবল থেকে রক্ষা পাবে স্পার বাঁধের বসবাসকারীরা। শুকনো মৌসুমে ওই বাঁধ রক্ষায় স্থায়ী সমাধান করা হবে বলে জানান তিনি।