রংপুর বিভাগের সীমান্তবর্তী জেলা নীলফামারী। এক সময়কার শষ্যভাণ্ডার হিসেব খ্যাত এই জেলার পথের দু’ধারে এখন সারি সারি সরিষা খেত। মাঠের পর মাঠ জুড়ে হলুদ ফুলে ভরা। এ দৃশ্য দেখে যেমন দু-চোখ জুড়িয়ে যায়, তেমনি এটা কৃষকের সারা বছরের পরিশ্রমের প্রমাণ দেয়। সরিষার এমন ফলন হাসি ফুটিয়েছে কৃষকের মুখেও।
অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি বাড়তি ফসল হিসেব সরিষা চাষ বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এ অঞ্চলে। বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও এ অঞ্চলে সরিষার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। সরিষা খেত থেকে মৌ চাষ করে মধু আহরণের মাধ্যমে বাড়তি আয়ের পাশাপাশি ফসল ফলাতে সহায়তা পাচ্ছে কৃষক।
নীলফামারী জেলার কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক বছরে ফলন ও বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় এ বছর জেলায় সরিষার আবাদ বেশি হয়েছে। জেলায় এবার ৮ হাজার হেক্টর জমিতে সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। কিন্তু আবাদ হয়েছে ৫ হাজার হেক্টর জমিতে।
গত বছরের থেকে কয়েক হাজার হেক্টর জমিতে আবাদ বেশি হয়েছে। কৃষি বিভাগ অত্যাধুনিক পদ্ধতিতে উচ্চ ফলনশীল সরিষা চাষে কৃষককে পরামর্শ ও সহযোগিতা করে আসছে।
নীলফামারী সদরের রামনগর ইউনিয়নের কৃষক তছলিম উদ্দিন বলেন, ‘সরিষা চাষ করে আমার খুবই ভালো লাগে। আমার জমিতে অনেকেই ছবি তোলেন। অনেকেই অনেক দূর থেকে তা দেখতে আসেন। তাই আমি সরিষা চাষ প্রতি বছরেই করে থাকি।’
জেলা সদরের বিশমুড়ি গ্রামের কাজী হামিদুল ইসলাম বলেন, ‘বিঘা প্রতি জমিতে সাতমণ সরিষা উৎপাদন হলেও সব খরচ বাদ দিয়ে এবার আমরা লাভবান হবো। অন্য ফসলের চেয়ে সরিষা চাষ বেশি লাভজনক।’
তিনি আরও বলেন, বাড়তি ফসল হিসেবে নীলফামারীতে সরিষা চাষ আগের তুলনায় বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। সরিষা চাষ করে অনেক কৃষকের ঘুরেছে ভাগ্যের চাকা।
সংশ্লিষ্ট বিভাগের সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে এবং সরিষার ভালো মূল্য পেলে এ অঞ্চলে সরিষা চাষের পরিধি আরও বাড়বে বলে আশা করছেন কৃষিবিদরা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক গোলাম মো. ইদ্রিস বলেন, গত বছরের তুলনায় চলতি বছর তিন হাজার হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ বেশি হয়েছে। তবে তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশায় কিছুটা প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করে। এরপরেও সার্বিক আবহাওয়া অনুকূল থাকায় সরিষার বাম্পার ফলনের সম্ভবনা রয়েছে।
/এসটি/