পঞ্চগড়ে রবিউল আওয়াল ওরফে রুবেল (৩৫) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যুর নয় বছর পর তার নামে মামলা করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। রুবেল আট বছর আগে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। মঙ্গলবার (৯ নভেম্বর) তেঁতুলিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সায়েম মিয়া জানান, ৫১ জনের নামে দায়ের হওয়া নির্বাচনি সহিংসতার ঘটনায় করা এ মামলায় রুবেল ১৮ নম্বর আসামি।
মৃত রুবেলের বাড়ি জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার ভজনপুর ইউনিয়নের কুড়ানুগছ গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের রফিকুল ইসলাম ওরফে বেলের ছেলে।
জানা গেছে, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে স্থানীয় আওয়ামী লীগ দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী হারুন উর রশিদ লিটনের পথসভায় হামলা ও মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করা হয়। গত ৩১ অক্টোবর রাতে ভজনপুর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন আওয়ামী লীগ অফিসের সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে। গত ৪ নভেম্বর নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হারুন অর রশিদ লিটন বাদী হয়ে এ ঘটনায় রবিউল আওয়াল ওরফে রুবেলসহ ৫১ জনকে আসামি করে মামলা করেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, মামলার ১১ নম্বর থেকে ২০ নম্বর আসামিরা মামলার সাক্ষী পবিত্র রায় ও আবুল হোসেনকে বাঁশের লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারপিট শুরু করে।
রুবেলের বাবা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমার ছেলে আট বছর আগে ২০১২ সালে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। যুবক বয়সে বড় ছেলে হারিয়েছি। এখনও শোক কাটিয়ে উঠতে পারিনি। মৃত্যুর নয় বছর পর ছেলের নামে মামলা হওয়ার বিষয়টি মেনে নিতে পারছি না। বিষয়টি অনেক কষ্টদায়ক। কারা ষড়যন্ত্র করে আমার ছেলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করলো বুঝে উঠতে পারছি না।’
রুবেলের মা রাজিয়া খাতুন ও বোন রুনি আক্তার এ সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন।
চেয়ারম্যান প্রার্থী হারুন উর রশিদ লিটন এ বিষয়ে বলেন, ‘এজাহার টাইপ করার সময় ভুল হয়েছে। রুবেলের জায়গায় তার ছোট ভাই রাকিবের নাম হবে। তার নাম বাদ দেওয়া হবে।’
তেঁতুলিয়া মডেল থানার ওসি বলেন, ‘আমি শুনেছি রুবেল মারা গেছেন। তবে আমার কাছে এখন পর্যন্ত মৃত্যুর সনদ দাখিল করা হয়নি। যদি সত্যিই এরকম ঘটনা ঘটে তবে এর দায়ভার মামলার বাদীর। রুবেল মৃত হলে চার্জশিটে তার নাম থাকবে না।’