গাইবান্ধার সদর উপজেলায় ভোট গণনা শেষে ফলাফল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে রাবার বুলেটে আহত হামিদুল হক (৩৫) মারা গেছেন। রবিবার (১৪ নভেম্বর) সকালে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। হামিদুল সদর উপজেলার বল্লমঝাড় ইউনিয়নের দক্ষিণ ধানঘড়া গ্রামের মৃত আবু হোসেনের ছেলে।
স্থানীয়রা জানায়, গত ১১ নভেম্বর ইউপি নির্বাচনে ভোট গণনা দেখতে দক্ষিণ ধানঘড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে যান হামিদুল। সন্ধ্যার পর ভোট গণনা শেষে ফলাফল ঘোষণায় দেরি হওয়ায় উপস্থিত জনতার মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। এ সময় স্থানীয়দের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জসহ রাবার বুলেট ছোড়ে। হামিদুলের শরীরে একাধিক রাবার বুলেটের আঘাত লাগে।
হামিদুলের ভাই আলমগীর মিয়া ও আব্দুর রাজ্জাক জানান, গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় শনিবার দুপুরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিক্যালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ সকাল ৯টার দিকে হামিদুল মারা যান। হামিদুল কর্মী-সমর্থক কিংবা কোনও প্রার্থীর পক্ষে ভোট কেন্দ্রে যাননি। বাড়ির পাশেই ভোট কেন্দ্র হওয়ায় ফলাফল ঘোষণা দেখতে গিয়েছিলেন। হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মরদেহ বাড়িতে আনা হয়েছে।
হামিদুলের স্ত্রী শরিফা বেগমের অভিযোগ, বুকে, কপাল ও নাক, পেট ও মাথাসহ শরীরের অন্তত ৩০টি জায়গায় পুলিশের ছোড়া রাবার বুলেটের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে।
গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি, তদন্ত) মো. আব্দুর রউফ জানান, হামিদুলের মৃত্যুর বিষয়টি তদন্ত করে দেখতে পুলিশ মাঠে করছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় তার পরিবারের কেউ অভিযোগ করেনি।