একটা সরকার বদলাতে এত লোক লাগে না: নজরুল ইসলাম

মানুষের জীবন বাঁচানোর চেয়ে জরুরি কিছু নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। তিনি বলেছেন, ‘একজন ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিও যদি অসুস্থ হয়, তাকে ওই অবস্থায় ফাঁসি দেওয়া যায় না। তাকে চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করে ফাঁসি দিতে হয়। খালেদা জিয়া তো ফাঁসির আসামি না, তাকে অন্যায়ভাবে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তার সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। আর না করা হলে আমরা যারা বিএনপি করি শুধু তারাই খালেদা জিয়াকে ভালোবাসি তা কিন্তু নয়, এ দেশের লাখো-কোটি মানুষ তাকে ভালোবাসে। এই কোটি কোটি মানুষকে ক্ষেপাবেন না। একটা সরকার বদলাতে এত লোক লাগে না।’

বুধবার (২২ ডিসেম্বর) বিকাল ৩টায় খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে চিকিৎসার দাবিতে দিনাজপুর জেল রোডের বিএনপি কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত সমাবেশে এ কথা বলেন তিনি। দুপুর ২টা থেকেই দিনাজপুর জেলার ১৩ উপজেলার নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে সমাবেশে যোগ দেন। সমাবেশে যেকোনও ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে মোতায়েন ছিল বিপুল সংখ্যক পুলিশ।

নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সমাবেশের কারণে জনগণের রাস্তা বন্ধ হয়ে গেছে বলে সমবেদনা জানাচ্ছি। আমরা আপনাদের কষ্ট দিতে চাইনি, মাঠে সমাবেশ করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সরকার আমাদেরকে সেটি করতে দেয়নি। আপনাদের যে কষ্ট হচ্ছে, তার জন্য আমরা দায়ী নই, দায়ী এই রাতের সরকার। তাদের জনগণ ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেনি। আমরা যারা মুক্তিযুদ্ধ করেছি, তারা লজ্জিত হয়ে পড়ছি। আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা, মাসে মাসে ২০ হাজার টাকা করে ভাতা পাই। আমার ছোট ভাই বীর প্রতীক, বড় ভাই যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা। আজ আমার নেত্রীর মুক্তি ও সুচিকিৎসার জন্য একটি সমাবেশ করতে পারবো না? আপনাদের সামনে বক্তব্য রাখতে বাধা সৃষ্টি হবে। এটা কী করে ভাবতে পারি? দুর্ভাগ্য আমাদের যে আমরা এমন একটি দেশের সন্তান যে দেশে বলা হয় একটি গণতন্ত্র আছে, কিন্তু গণতান্ত্রিকভাবে কথা বলার অধিকার নেই। বিশ্বের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সম্মেলন হয়, সেই সম্মেলনে বাংলাদেশ দাওয়াত পায় না।’

সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- সাবেক ছাত্রনেতা আব্দুল খালেক, দিনাজপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোফাজ্জল হোসেন দুলাল, যুগ্ম আহ্বায়ক খালেকুজ্জামান বাবু, মোফাজ্জল হোসেন দুলাল, হাসানুজ্জামান উজ্জ্বল, আখতারুজ্জামান জুয়েল, দিনাজপুর পৌরসভার মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ।