থানার জায়গা উদ্ধারে লাগলো ৩৩ বছর

ঠাকুরগাঁওয়ে অন্যের দখলে থাকা বাংলাদেশ পুলিশের এক একর জমি উদ্ধার হয়েছে। রবিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে জেলা সদরের ভুল্লি এলাকায় জমির সীমানা নির্ধারণ করে একটি সাইনবোর্ড স্থাপন করেন ঠাকুরগাঁও সদর থানার ওসি তানভীরুল ইসলাম। এর মধ্য দিয়ে এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ভুল্লি থানার স্থাপনা নির্মাণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।

জানা যায়, ১৯৮৯ সালে এলাকার জনগণের নিরাপত্তা ও জানমালের রক্ষায় পুলিশ ফাঁড়ি বসানোর জন্য পুলিশের মহাপরিচালক বরাবর তৎকালীন ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সংসদ সদস্য ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী রেজওয়ানুল হক চৌধুরী (ইদু) নিজের ব্যক্তিগত এক একর জমি দান করেন। পরে কিছু সময় সেখানে অস্থায়ী একটি পুলিশ ফাঁড়ি বসানো হলেও উঠিয়ে নেওয়া হয়। এক সময় জমিটি স্থানীয় মানুষের দখলে চলে যায়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন স্থানীয় এক জমির দালাল আজিজের দখলে ছিল জমিটি। জমিতে তিনি বিভিন্ন ফসলের চাষাবাদ করতেন। কিন্তু সম্প্রতি আরও কতিপয় ব্যক্তি স্থানীয় নূর ইসলাম (সদ্য সাবেক মেম্বার), রাজ্জাক, হাসেম আলী, জয়নাল, দুলু মিঞা জমিটিতে ভবনসহ আর কিছু স্থাপনা নির্মাণের কাজ শুরু করে। তারা সকলে জাল দলিলের ব্যবস্থা করেছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু জমিটি নিজেদের বলে জানতো না খোদ পুলিশ সদস্যরা। 

সম্প্রতি গোপন সূত্রে বিষয়টি জানতে পারেন ঠাকুরগাঁও সদর থানার ওসি তানভীরুল ইসলাম। এর পরেই তিনি জমিটি নিয়ে তদন্ত শুরু করেন। খুঁজে বের করেন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও জমির দলিল।

ওসি তানভীরুল বলেন, বিষয়টি জানতে পেরে আমি গোপনে তদন্ত শুরু করি। প্রয়োজনীয় সব কাগজ বের করি। এরপর স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সদর থানার পুলিশসহ জমিটি উদ্ধার অভিযানে যাই। জমিটি এখন পুলিশের দখলে আছে। সেখানে বাংলাদেশ পুলিশের সাইনবোর্ড লাগানো হয়েছে।

এই বিষয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যান জুলফিকার আলি ভূট্টো চৌধুরী বলেন, আমি আগে জানতাম না, এখানে পুলিশের জমি রয়েছে। সদর থানার ওসি আমাকে বিষয়টি জানান ও প্রয়োজনীয় কাগজ দেখান। তবে স্থানীয় অনেক মুরুব্বি বিষয়টি জানতেন বলে পরে জানা গেছে। 

জমি দানকারী রেজওয়ানুল চৌধুরীর বড় ছেলে সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান সুলতানুল ফেরদৌস নম্র চৌধুরী বলেন, জনগণের স্বার্থে আমার বাবা জমিটি বাংলাদেশ পুলিশকে দান করেছিলেন। বিষয়টি আমি জানতাম। এর আগে একবার মৌখিকভাবে পুলিশকে বিষয়টি জানিয়েছিলাম। তবে সে সময় তেমন কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। 

ঠাকুরগাঁও পুলিশ সুপার এসপি জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, এর আগে পুলিশ সদস্যরা এই জমিটির বিষয়ে অবগত ছিল কিনা, তা জানা নেই। তবে আমরা সম্প্রতি জানতে পেরে পদক্ষেপ নিয়েছি। আগামীতে জায়গাটি পুলিশের কাজে ব্যবহার করা হবে। 

২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রী এলাকাটি থানা করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। এ ধারাবাহিকতায় ভুল্লি এলাকাটি শিগগিরই ঠাকুরগাঁও জেলাধীন থানা ঘোষণা হতে পারে। উদ্ধার হওয়া জায়গাটিতে ( জে.এল নম্বর ৬৩, দাগ নম্বর ১৬২১, খতিয়ান নম্বর ২৯) থানা হলেও সরকারের অনেক টাকা বেঁচে যাবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।