প্রায় দুই বছর বন্ধ থাকার পর মঙ্গলবার (১ মার্চ) থেকে আবারও কুড়িগ্রাম-রমনা রেলপথে ট্রেন চালু হচ্ছে। মঙ্গলবার সকাল ৮টায় চিলমারীর রমনা রেল স্টেশন থেকে রমনা কমিউটার রংপুরের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে। সোমবার বাংলাদেশ রেলওয়ের লালমানিরহাটের বিভাগীয় ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) শাহ সুফী নুর মোহাম্মদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে, করোনার প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে ২০২০ সালের মার্চে সারা দেশের ট্রেন চলাচল বন্ধের পাশাপাশি এই রেলপথে চলাচলকারী পার্বতীপুরগামী একমাত্র রমনা লোকাল ট্রেনটি বন্ধ করা হয়। পরে দেশের সব রেলপথে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হলেও লোকোমাস্টার, ইঞ্জিন স্বল্পতা ও জনবল সংকটের অজুহাতে এই রেলপথে প্রায় দুই বছর ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখে কর্তৃপক্ষ। কমিউটার ট্রেন নামে রংপুর পর্যন্ত রেল চালুর উদ্যোগ নেওয়া হলেও পার্বতীপুরগামী রমনা লোকাল ট্রেনটি সহসাই চালু হচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
রেলপথ কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, নতুন চালু হওয়া কমিউটার ট্রেনটি বিকালে লালমনিরহাট-কাউনিয়া-কুড়িগ্রাম-কাউনিয়া-রমনা ও সকালে রমনা-কুড়িগ্রাম-কাউনিয়া-রংপুর-লালমনিরহাট রেলপথে যাতায়াত করবে। মূলত রংপুর এক্সপ্রেস আন্তঃনগর ট্রেনের সংযোগকারী শাটল ট্রেনটি কমিউটার নামে যাতায়াত করবে। এটি প্রতিদিন রাত ৯টায় কাউনিয়া স্টেশন থেকে রমনার উদ্দেশে ছেড়ে যাবে এবং রাত সাড়ে ১১টায় রমনা পৌঁছে সেখানে রাতে অবস্থান করবে। পর দিন সকাল ৮টায় আবার রংপুরের উদ্দেশে রমনা স্টেশন ছেড়ে রংপুর হয়ে লালমনিরহাট স্টেশন যাত্রা করবে।
রেল, নৌ যোগাযোগ ও পরিবেশ উন্নয়ন গণকমিটির সাবেক সহ-সভাপতি এবং রেলপথ আন্দোলনের নেতা আব্দুল কাদের বলেন, ‘এটা মূলত রংপুর এক্সপ্রেসের সংযোগকারী শাটল ট্রেন। যে শিডিউলে এটি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে তাতে কয়েকদিন পর লোকসানের অজুহাত দেখিয়ে আবারও বন্ধের পাঁয়তারা হতে পারে।’
তিনি বলেন, ‘সকালে যেসময় ট্রেনটি কুড়িগ্রাম ছেড়ে যাবে, এর কিছু সময় আগে কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস কুড়িগ্রাম থেকে ছেড়ে যায়। যাত্রীরা রংপুর পর্যন্ত কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসে যেতে পারবেন। তাহলে কমিউটারে চড়বেন কে?’ তিনি স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনা করে ট্রেনের সময়সূচি নির্ধারণের দাবি জানান।
লালমনিরহাটের বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক শাহ সুফী নুর মোহাম্মদ বলেন, ‘রেলওয়ে কোনও বাণিজ্যিক খাত নয়, এটি সরকারের সেবামূলক খাত। সরকার এটি ভর্তুকি দিয়ে চালায়। সুতরাং লাভ বা লোকসান বিবেচনায় এটি চালু বা বন্ধ করার সুযোগ নেই।’
চলতি বছরেই কুড়িগ্রাম-উলিপুর রেলপথ সংস্কার করে ট্রেনের সময়সূচি সমন্বয় করা হবে- এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে রেলপথ সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছি। রেলপথ সংস্কার হলে ট্রেনের গতি বৃদ্ধি পাবে। তখন আমরা স্থানীয়দের সুবিধা বিবেচনা করে তাদের সঙ্গে আলোচনা করে ট্রেনের সময়সূচি সমন্বয় করবো এবং আশা করি আরও একটি ট্রেন বাড়িয়ে দিতে পারবো। তবে এই মুহূর্তে নির্ধারিত সময়ের বাইরে ট্রেন চলানো সম্ভব নয়। একইসঙ্গে রেলপথ সংস্কারের পর কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস আন্তঃনগর ট্রেনটি উলিপুর পর্যন্ত যাতায়াত করবে।’