হাইকোর্টের ৩০ দিনের আদেশ ৪ বছরেও পালন করেনি দুদক

রংপুর নগরীর সমাজকল্যাণ বিদ্যাবিথী স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ নাহিদা ইয়াসমিনের শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকার পরও দুর্নীতি করে নিয়োগ পেয়েছেন মর্মে হাইকোর্টে একটি রিট হয়েছিল। ওই রিটের আদেশে বিষয়টি তদন্ত করে ৩০ দিনের মধ্যে রংপুর দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) ব্যবস্থা নিতে বলেছিলেন হাইকোর্ট। অথচ এই আদেশের চার বছর পার হলেও আদৌ কোনও পদক্ষেপ নেয়নি রংপুর দুদক।

অধ্যক্ষ নাহিদা ইয়াসমিনের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে এই রিট করেছেন রংপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র আব্দুর রউফ মানিক। রিটকারীর অভিযোগ, ‌‘রিটের আদেশ চার বছরেও পালন না করে আদালতকে অসম্মান করেছেন দুদকের কর্মকর্তারা। সেই সঙ্গে অভিযুক্ত অধ্যক্ষ নাহিদা ইয়াসমিনকে রক্ষার চেষ্টা করছেন। তার কাছ থেকে সুবিধা নিয়ে আদালতের আদেশ ঝুলিয়ে রেখেছেন। এ বিষয়ে দুদকের সমন্বিত রংপুর কার্যালয় এবং বিভাগীয় কার্যালয়ে কয়েক দফায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরও কোনও পদক্ষেপ নেননি দায়িত্বশীলরা।’

আব্দুর রউফ মানিক বলেন, ‌‘রিটে উল্লেখিত অভিযোগগুলো তদন্তের জন্য সহকারী পরিচালক হোসেন শরীফকে দায়িত্ব দেয় দুদক। এই তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে একাধিকবার দেখা করে আদালতের আদেশ পালনের অনুরোধ করেছি। ওই কর্মকর্তা করছি, করে দেবো, দেখছি, ব্যবস্থা নিচ্ছি বলে চার বছর সময়ক্ষেপণ করছেন। পরে শুনেছি, অভিযুক্ত অধ্যক্ষের কাছ থেকে অবৈধ সুবিধা নিয়ে ঘটনা আড়াল করার চেষ্টা করছেন। বিষয়টি গণমাধ্যমকর্মীদের বলতে নিষেধ করেছেন ওই কর্মকর্তা।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নাহিদা ইয়াসমিনের শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও অধ্যক্ষ হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এই নিয়োগে কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। এ নিয়ে ২০১৮ সালে হাইকোর্টে রিট করেন আব্দুর রউফ মানিক। ওই বছরই বিচারপতি মামনুন রহমান ও বিচারপতি খিজির হায়াতের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ৩০ দিনের মধ্যে বিষয়টি তদন্ত করে রংপুর দুদককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আদেশ দেন। বিষয়টি তদন্তের জন্য দুদকের সহকারী পরিচালক হোসেন শরীফকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু হাইকোর্টের এই আদেশ চার বছরেও পালন করেননি দুদকের কর্মকর্তারা। 

আব্দুর রউফ মানিক বলেন, ‘গত চার বছরে রংপুর দুদক কার্যালয়ে বহুবার গেছি। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করেছি। কিন্তু দুদক কর্মকর্তারা আদালতের আদেশ আমলে নেননি। এ নিয়ে আমি হতাশ এবং ক্ষুব্ধ। আদৌ দুদক কোনও ব্যবস্থা নেবে কিনা জানি না।’ 

তিনি বলেন, ‘গত মাসের শেষের দিকে লিখিত অভিযোগ নিয়ে হোসেন শরীফের সঙ্গে তার কার্যালয়ে দেখা করে প্রতিকার চেয়েছি। তিনি লিখিত অভিযোগ গ্রহণ না করে দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছেন জানিয়ে আমাকে বিদায় করে দেন। এরপর রংপুর দুদকের উপ-পরিচালক ও বিভাগীয় পরিচালকের কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দিই। তারা অভিযোগ গ্রহণ করে আমাকে বলেছেন, তদন্ত কার্যক্রম কতদূর এগিয়েছে, তা তদন্ত কর্মকর্তার কাছ থেকে জেনে ব্যবস্থা নেবো। তাদের কথা শুনে মনে হয়েছে, বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।’ 

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে দুদকের রংপুর বিভাগীয় পরিচালক আব্দুল করিম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘রিটকারীকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে আমাদের সঙ্গে দেখা করতে বলেন। এরপর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ ২ মার্চ তার কার্যালয়ে গিয়ে রিটকারী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দিয়ে আসার পরও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। 

সবশেষ গতকাল রবিবার এ বিষয়ে জানতে চাইলে আব্দুল করিম বলেন, ‘ওই বিষয়টি তদন্ত কর্মকর্তা দেখছেন। তাকে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। চার বছরেও কেন আদালতের আদেশ পালন করা হয়নি সেই প্রশ্নের জবাব দিতে পারেননি আব্দুল করিম।’

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে তদন্ত কর্মকর্তা রংপুর দুদক কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক হোসেন শরীফ বলেন, ‘বিষয়টি দেখছি। এক সপ্তাহের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’