যৌতুক দাবি ও নির্যাতনের অভিযোগে রংপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ২-এর বিচারক দেবাংশু কুমার সরকারের বিরুদ্ধে স্ত্রীর করা মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
রবিবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে রংপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ আদালতের বিচারক মোস্তফা কামাল বাদীর জবানবন্দি রেকর্ডের পর এই আদেশ দেন। বাদীর আইনজীবী রংপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ আদালতের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর রফিক হাসনাইন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে, ১৭ এপ্রিল বাদী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক রোকনুজ্জামানের আদালতে মামলা করলে আদালত ২১ এপ্রিল শুনানির দিন ধার্য করেন। কিন্তু বিচারক না থাকায় আজ শুনানি হয়। মামলায় বাদী তার স্বামী বিচারক দেবাংশু কুমার সরকারসহ আরও তিন জনকে আসামি করেছেন। তারা হলেন- শ্বশুর সুধাংশু কুমার সরকার, তাদের আত্মীয় নিলয় দে সরকার ও রঞ্জন সরকার।
মামলার অভিযোগে বাদী উল্লেখ করেন, তিনি রংপুর মেডিক্যাল থেকে এমবিবিএস পাস করার পর বর্তমানে চিকিৎসা পেশায় নিয়োজিত আছেন। ২০১৫ সালের ১১ মে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের অনুষ্ঠানে স্বামী ৩০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। পরে বাদীর বাবার ৫০ ভরি সোনাসহ ২৫ লাখ টাকার উপহার সামগ্রী দেন। বিয়ের কিছুদিন না যেতেই আসামি পুনরায় একটি নতুন গাড়ি কিনে দেওয়ার জন্য ৩০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় বাদীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালান। এর মধ্যে আসামি রংপুর জজশিপে বদলি হয়ে আসেন। তিনি সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্ব পান।
আরও উল্লেখ করা হয়েছে, তারা রংপুরে ভাড়া বাসা নিয়ে থাকা শুরু করেন। সেখানে স্বামীর মাদকাসক্তির বিষয়টি নজরে আসে। গত বছরের ২৮ মে আসামি পুনরায় ৩০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে চাপ সৃষ্টি করেন। টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় মারধর করে বাসা থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করলে বিচারক বেদী রানি, মিনহাজুর রহমান ও দেলোয়ার হোসেন তাকে রক্ষা করেন। এরপর তাদের একটি সন্তানও হয়। তবে টাকার জন্য নির্যাতন থামে না। এরই মধ্যে বাদী জানতে পারেন, আসামি দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। ফলে বাধ্য হয়ে প্রধান বিচারপতি ও আইন মন্ত্রণালয়ে লিখিত আবেদন করে বিচার দাবি করেন। এতে আরও ক্ষিপ্ত হয়ে স্ত্রীকে বাসা থেকে বের করে দেন। উপায়ন্তর না দেখে রংপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এলাকায় ঘোরাফেরা করে স্বামীর দেখা করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। স্বামী লোক মারফত জানান, ৩০ লাখ টাকা না দিলে তার সঙ্গে সংসার হবে না।
গত ২৮ মার্চ সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বাদী ও তার স্বজন এবং সাক্ষীরাসহ দেবাংশু কুমার সরকারের সঙ্গে দেখা করার জন্য এলে দেখা না পেয়ে আদালত প্রাঙ্গণে অপেক্ষা করেন। এ সময় বিচারক স্বামী স্ত্রীর চুলের মুঠি ধরে মারধর করেন। হত্যার উদ্দেশ্যে গলা চেপে ধরে। বাদী অজ্ঞান হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। দ্রুত রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান স্বজনরা। হাসপাতালে ২১ দিন চিকিৎসা নেওয়ার পর সুস্থ হয়ে ১৭ এপ্রিল রংপুর মেট্রোপলিটান কোতোয়ালি থানায় এজাহার দিতে গেলে পুলিশ মামলা না নিয়ে আদালতে অভিযোগ করতে বলেন।