রংপুরে মাদকবাহী প্রাইভেট কারে অগ্নিসংযোগ

রংপুর থেকে বিপুল পরিমাণ ফেনসিডিল নিয়ে প্রাইভেট কারযোগে তিস্তা ব্রিজ পার হচ্ছিল একটি প্রাইভেট কার। দ্রুত বেগে লালমনিরহাটের দিকে যাওয়ার পথে সেটি রিকশা, অটোরিকশা এবং অপর একটি প্রাইভেট কারকে ধাক্কা দেয়। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ জনতা ফেনসিডিল বহনকারী গাড়িটিতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। এতে গাড়িটির ৯০ ভাগ পুড়ে গেছে।

মাদক বহনকারী প্রাইভেট কারটির ড্রাইভারসহ অন্য সহযোগীরা অবশ্য পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার লক্ষমিটারী ইউনিয়নের তিস্তা ব্রিজের অপর প্রান্তে ইছলী নামক স্থানে এ ঘটনা ঘটে।

গঙ্গাচড়া থানার ওসি তদন্ত আরিফ হোসেন ও গঙ্গচড়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন ইনচার্জ মোজাম্মেল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ, প্রত্যাক্ষদর্শী ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে রংপুর থেকে নম্বরবিহীন একটি প্রাইভেট কার ফেনসিডিল নিয়ে তিস্তা ব্রিজ দিয়ে লালমনিরহাটের দিকে যাচ্ছিল। এ সময় ডিবি পুলিশের একটি দল প্রাইভেট কারটিকে থামতে বললে ড্রাইভার না থেমে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালিয়ে পালিয়ে যাবার সময় পথিমধ্যে একটি রিকশা এবং একটি অটোরিকশাকে চাপা দিয়ে দ্রুত বেগে পালিয়ে যাবার চেষ্টা করে। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা মাদক বহনকারী নম্বরবিহীন প্রাইভেট কারটিকে আটক করার চেষ্টা করে। কিন্তু ইছলী এলাকায় সিরাজুল মার্কেটের কাছে লালমনিরহাট থেকে ইস্পাহানি মির্জাপুর চায়ের একটি প্রাইভেট কার রংপুর আসার পথে ফেনসিডিল বহনকারী প্রাইভেট কারটি আরও বেপরোয়াভাবে চালিয়ে পালিয়ে যাবার সময় চা কোম্পানির প্রাইভেট কারের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এতে মাদক বহনকারী প্রাইভেট কারটি রাস্তার পাশে উল্টে যায়। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা সেটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। খবর পেয়ে গঙ্গাচড়া থানা থেকে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর চেষ্টা করে। ততক্ষণে গাড়িটির ৯০ ভাগ পুড়ে যায়। তবে মাদক বহনকারী প্রাইভেট কারের ড্রাইভারসহ অন্য সহযোগীরা পালিয়ে যায়। পুলিশ তাদের কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। এমনকি ফেনসিডিলও উদ্ধার করতে পারেনি। তবে পোড়া অবস্থায় ফেনসিডিলের দুইটি বোতল পেয়েছে ফায়ার সার্ভিস।

এ ব্যাপারে গঙ্গাচড়া উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের ষ্টেশন অফিসার মোজাম্মেল হোসেন জানান, থানার ওসির মারফত খবর পেয়ে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে যাত্রা করেন। কিন্তু তাদের কার্যালয় থেকে ঘটনাস্থল ১০ কিলোমিটার দূরে হওয়ায় সেখানে যেতে ১৫ মিনিট সময় লেগেছে। তারা সেখানে গিয়ে প্রাইভেট কারটির আগুন নেভাতে সক্ষম হন। তবে ততক্ষণে গাড়িটির ৯০ ভাগ পুড়ে গেছে।

তিনি আরও জানান, প্রত্যক্ষদর্শী ইস্পাহানি চা কোম্পানির প্রাইভেট কারের ড্রাইভার সৈকত তাকে জানিয়েছেন, নম্বরবিহীন মাদক বহনকারী প্রাইভেট কারটি বেপরোয়াভাবে চালিয়ে যাওয়ায় তিনি নিজের গাড়ি থামিয়ে দেন। তারপরও তার গাড়িতে ধাক্কা লেগেছে। এতে তিনি সামান্য আহত হয়েছেন।

ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মোজাম্মেল হক আরও জানান, তারা দুই বোতল ফেনসিডিল পোড়া অবস্থায় পেয়েছেন।

এ ব্যাপারে ঘটনাস্থল থেকে ফিরে গঙ্গাচড়া থানার ওসি (তদন্ত) আরিফ আলী জানান, প্রাইভেট কারটি মাদক বহন করছিল। এটা প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। গাড়ি পুড়ে যাওয়ায় কোনও ফেনসিডিল উদ্ধার করা যায়নি। তবে প্রাইভেট কারটির মালিক কে, গাড়িতে কারা ছিলো এসব ব্যাপারে অনুসন্ধান চলছে।