পঞ্চগড় জেলার সদর উপজেলার পঞ্চগড় ইউনিয়ন পরিষদের হেফাজতে থাকা মো. সুজন (২৫) নামে এক যুবক আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (২৫ আগস্ট) ভোরে ইউনিয়ন পরিষদের একটি কক্ষ থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলার প্রস্তুতি চলছে। তার বাড়ি জেলা সদরের গোয়াল পাড়া এলাকায়। তিনি ওই এলাকার মৃত কছিম উদ্দিনের ছেলে।
পুলিশ, নিহতের পরিবার ও ইউপি কার্যালয় সূত্র জানায়, মসজিদের ব্যাটারি চুরির অভিযোগে স্থানীয় লোকজনসহ পঞ্চগড় সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এমরান আল আমিন সুজন ও জাহেদুলকে আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদে সুজন মসজিদের ব্যাটারি চুরি করেছে বলে স্বীকার করেন এবং সকালে চুরি করা ব্যাটারি ফেরত দেবেন বলে জানান। রাতে তাদের দুজনকে ইউনিয়ন পরিষদের দুটি কক্ষে আটকে রাখে। সকালে তাদের জন্য নাশতা নিয়ে এসে তাদের ডাকতে গেলে সুজনের ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে।
পঞ্চগড় সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আল ইমরান খান দাবি করেন, ‘রাতে আটকের পর তারা মসজিদের চুরি হওয়া ব্যাটারি সকালে উদ্ধার করে দিতে চেয়েছিলেন। তারা মসজিদের লোকজনের কাছে ক্ষমাও চান এবং স্থানীয়রা তাদের মাফ করে দেন। এ ছাড়া নিহত সুজন আমার নিকটতম প্রতিবেশী ও আমার জমিতেই পরিবার নিয়ে বসবাস করে। চুরি এবং মাদকের বিষয় তাকে একাধিকবার বুঝিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। সকালে ব্যাটারি উদ্ধার শেষে সালিশ বৈঠকের পর তাদের পুলিশে না দিয়ে ছেড়ে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। মূলত চুরি হওয়া ব্যাটারি সকালে উদ্ধারের জন্যই তাদের আটকে রাখা হয়। কিন্তু রাতেই তার কাছে থাকা গামছা দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে।’
সদর থানার ওসি আব্দুল লতিফ মিয়া জানান, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলার প্রস্তুতি চলছে। কেউ কোনও অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।