এনআইডি কার্ডের ভিত্তিতে পাসপোর্টের তথ্য হালনাগাদের নির্দেশনার পরও হলফনামা চেয়ে সেবাগ্রহীতাদের হয়রানির অভিযোগে কুড়িগ্রাম জেলা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের উপ-সহকারী পরিচালক কবির হোসেনকে তলব করেছেন আদালত। আগামী বৃহস্পতিবার (১৩ অক্টোবর) তাকে স্বশরীরে আদালতে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১১ অক্টোবর) কুড়িগ্রাম চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের (তৃতীয়) জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মজনু মিয়া এই আদেশ দেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী (পেশকার) লিয়াকত আলী এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আদালত সূত্র জানায়, পাসপোর্ট দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনও কোনও ক্ষেত্রে হলফনামা প্রয়োজন এবং কোনও কোনও ক্ষেত্রে প্রয়োজন নেই- তা ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদফতরের নির্দেশনায় বলা রয়েছে। এরপরও গত ৬ অক্টোবর তিন ব্যক্তি জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী পাসপোর্ট সংশোধনের জন্য গেলে উপ-সহকারী পরিচালক কবির হোসেন তাদের আবেদনপত্রে আদালতের হলফনামা দিতে হবে মর্মে মতামত দেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের নিরাপত্তা ও বহিরাগমন অনুবিভাগের ২০২১ সালের ৯ ডিসেম্বর জারি করা একটি স্মারকের পরিপত্র অনুযায়ী দেশে পাসপোর্ট আবেদনকারীদের এনআইডির তথ্য অনুযায়ী পাসপোর্ট প্রদানের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে আদালত লিখিত আদেশে বলেন, পাসপোর্ট অধিদফতর থেকে প্রকাশিত পরিপত্র অনুযায়ী জাতীয় পরিচয়পত্রের ভিত্তিতে পাসপোর্ট সংশোধন করতে হলফনামার প্রয়োজন নেই জানালেও উপ-সহকারী পরিচালক কবির হোসেন সেবাগ্রহীতাদের হয়রানির উদ্দেশে হলফনামা করার জন্য আদালতে পাঠান। এতে সেবাপ্রার্থীরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন মর্মে আদালতের কাছে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়। এ ছাড়াও অহেতুক হলফনামা সম্পাদন করতে সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেটকে অপ্রয়োজনীয় সময় অতিবাহিত করতে হচ্ছে এবং এতে করে আদালতের বিচারিক কাজে ব্যাঘাত ঘটছে।
এমতাবস্থায় অভিযুক্ত উপ-সহকারী পরিচালক কবির হোসেনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে কেন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ প্রদান করা হবে না- তা আগামী বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় তাকে স্বশরীরে আদালতে হাজির হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী লিয়াকত আলী বলেন, ‘মঙ্গলবার বিকালে আদেশের কপি আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।’
কুড়িগ্রাম জেলা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের উপ-সহকারী পরিচালক কবির হোসেন বলেন, ‘আদালতের আদেশের কপি পেয়েছি। নির্দেশনা অনুযায়ী হাজির হয়ে আদালতে ব্যাখ্যা দেবো।’