দিনাজপুরের হিলিতে গেটম্যানের উপস্থিত বুদ্ধিতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে ভারত থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী মিতালি এক্সপ্রেস ট্রেন। এতে ট্রেনের ৮৪ জন যাত্রী প্রাণে বেঁচেছেন।
জানা যায়, রবিবার (৩০ অক্টোবর) বিকালে স্থলবন্দরের চেকপোস্ট গেটে এই ঘটনা ঘটে। পরে বিকাল ৫টা থেকে এই পথ দিয়ে ট্রেন চলাচল শুরু হয়। একইসঙ্গে বন্দর দিয়ে দু’দেশের মধ্যে পণ্য আমদানি-রফতানিও শুরু হয়।
গেটম্যান সুজন চন্দ্র বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ভারত থেকে পাথরবাহী এক ট্রাক রেললাইনের ওপরে উঠলে ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়ে। একই সময়ে ভারত থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী মিতালি এক্সপ্রেস ট্রেনটি বিরামপুর স্টেশন থেকে হিলির দিকে আসতে থাকে। খবর পেয়ে আমি বিজিবির সহায়তায় লাল কাপড় উড়িয়ে আউটার সিগন্যালের কাছে ট্রেনটিকে দাঁড় করাতে সক্ষম হই। যদি ট্রেনটি চলে আসতো তাহলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতো। ট্রেনে থাকা যাত্রীদের প্রাণহানির আশঙ্কাও ছিল।
ট্রেনটির চালক কাজী ওয়াহেদুজ্জামান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ভারত থেকে আসা মিতালি এক্সপ্রেস ট্রেনটিকে আমরা পার্বতীপুর থেকে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছিলাম। হিলি সীমান্তের চেকপোস্ট গেটের কাছে এক ব্যক্তিকে লাল পতাকা নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখি। লাল পতাকা দেখে ট্রেনটি দাঁড় করাই। এতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার হাত থেকে বেঁচে গেছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বাংলাহিলি কাস্টমস সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট আ্যসোসিয়েশনের সহসভাপতি আব্দুল আজিজ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, মিতালি এক্সপ্রেস ট্রেনটি হিলিতে আসার আগমুহূর্তে হিলি সীমান্তের চেকপোস্ট গেটের রেললাইনের ওপর একটি পাথরবাহী ট্রাক বিকল হয়। বিষয়টি রেলের স্টেশন মাস্টারসহ সবাইকে অবহিত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। আমরা ভারতীয় রফতানিকারকদের বার বার তাগাদা দিয়েছি, যাতে ত্রুটিপূর্ণ ট্রাকে পণ্য না পাঠান।
হিলি রেলস্টেশন মাস্টার তপন কুমার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ট্রাকটি সচল হয়ে পার হয়ে গেলে ২০ মিনিট পর মিতালি এক্সপ্রেস ট্রেনটি চলে যায়।
তিনি অভিযোগ করেন, ভারত থেকে পণ্য নিয়ে আসা ট্রাকের বেশিরভাগেরই ফিটনেস নেই। এসব ট্রাক পণ্য নিয়ে আসায় বিভিন্ন ধরনের দুর্ঘটনা ঘটছে।