শিক্ষকের ওপর চড়াও হওয়া সেই বিএনপি নেতার আগাম জামিন

কুড়িগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষক আব্দুল হাইয়ের দিকে তেড়ে যাওয়ার ঘটনার মামলায় মূল আসামি বিএনপি নেতা মাসুদ রানা আগাম জামিন পেয়েছেন।

মঙ্গলবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম এবং বিচারপতি মো. আমিনুল ইসলামের ডিভিশন বেঞ্চ মাসুদ রানাকে ছয় সপ্তাহের আগাম জামিন আদেশ দেন। 

এর আগে গত ৫ ফেব্রুয়ারি এজাহারনামীয় তিন আসামি ফরিদুজ্জামান মণ্ডল রুমন, মো. আমিনুল ইসলাম লিটন ও মো. আলতাফুর রহমান বিদ্যুতের চার সপ্তাহের আগাম জামিন দেন হাইকোর্ট। মাসুদ রানার জামিন আদেশের পর এই মামলায় এজাহারনামীয় সব আসামি জামিন পেলেন। বিকালে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু।

আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু বলেন, ‘আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুনানি শেষে হাইকোর্ট মাসুদ রানাকে ছয় সপ্তাহের আগাম জামিনের আদেশ দেন। ছয় সপ্তাহ পর তিনি অধস্তন আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন। আদেশের কপি সংশ্লিষ্ট থানায় পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’

গত ২২ জানুয়ারি দুপুরে সন্তানের ভর্তি বাতিল সংক্রান্ত বিষয়ে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আবেদন দিতে কুড়িগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের অফিস কক্ষে যান কয়েকজন অভিভাবক। এ সময় অফিস কক্ষে বিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক আব্দুল হাইয়ের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তার ওপর চড়াও হন বিএনপি নেতা ও ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থীর অভিভাবক মাসুদ রানা। শিক্ষকের সঙ্গে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের এ ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ হয়।

সিসি টিভি ফুটেজে দেখা যায়, বিএনপি নেতা ভুক্তভোগী শিক্ষকের সঙ্গে বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে তার দিকে তেড়ে যাচ্ছেন। তার এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণে শিক্ষক আব্দুল হাই নিজেকে সুরক্ষায় সরে যাচ্ছেন। পরে উপস্থিত অন্য শিক্ষক ও অভিভাবকরা মাসুদ রানাকে নিবৃত্ত করেন। 

এ ঘটনায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরে ওই দিন বিকালে কুড়িগ্রাম সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন ভুক্তভোগী শিক্ষক। পরে ওই শিক্ষকের এজাহারের পরিপ্রেক্ষিতে মামলা করা হয়।

মামলায় মাসুদ রানার বিরুদ্ধে শিক্ষককে ধাক্কা ও কিল-ঘুসি দেওয়ার অভিযোগ আনা হলেও এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি।