অন্য বাড়িতে লাগা আগুন ছাদে উঠে দেখার সময় পড়ে যুবকের মৃত্যু

রংপুর নগরীর লালবাগ খামার এলাকায় একটি বাড়িতে আগুন লাগার পর ছাদে উঠে দেখার সময় পড়ে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। স্বজনদের অভিযোগ, তাকে বাসার ছাদ থেকে ফেলে দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের সংঘর্ষে দুই পুলিশসহ ১০ জন আহত হয়েছেন।

সোমবার (১০ এপ্রিল) বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে ঘটনাটি ঘটেছে। ওই যুবকের নাম নুর আলম। তার বাবার নাম বাদল হোসেন। বাড়ি নগরীর লালবাগ চুড়িপট্টি এলাকায়।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীর সূত্রে জানা গেছে, বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে  রংপুর নগরীর লালবাগ খামার তাবলিগ মসজিদের পার্শ্বে স্থানীয় ফকির চাঁনের বাড়িতে আগুন লাগে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন বাড়ির বিভিন্ন ঘরে ছড়িয়ে পড়ে এতে বাড়ির প্রায় দুই লাখ টাকার মালামালসহ আসবাবপত্র পুড়ে যায়। ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট এসে দুই ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

এদিকে, আগুনের দৃশ্য দেখতে উৎসুক লালবাগ চুড়িপট্টি এলাকার লোকজন স্থানীয় মাজেদুল ইসলামের বাড়ির ছাদে উঠে পড়ে। এ সময় ছাদ থেকে সবাইকে নামতে বললে তার সঙ্গে বাগবিতণ্ডা লেগে যায়। এ ঘটনায় বাড়ির মালিক মাজেদুল ও শাহাজাদার সঙ্গে ছাদে থাকা চুড়িপট্টির লোকজনের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এর এক পর্যায়ে নুর আলম নামে ওই যুবক ছাদ থেকে পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। তাকে ছাদ থেকে ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনরা।

নুর আলমের মৃত্যুর খবর পেয়ে তার মা সালেহা বেগমের আহাজারিতে এলাকার বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। তিনি অভিযোগ করেন, তার ছেলে আগুন লাগার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে একটি বাসার ছাদে অন্যান্যদের মতো উঠলে তাকে ছাদ থেকে ফেলে দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তিনি দায়ীদের গ্রেফতার ও শাস্তি দাবি করেন।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দু পক্ষের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া সংঘর্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। খবর পেয়ে বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে রংপুর সিটি করপোরেশন মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা ঘটনাস্থলে যান। তিনি জানান, এক যুবককে নাকি ছাদ থেকে ফেলে দিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে বলে স্বজনরা অভিযোগ করেছেন। ঘটনার সত্যতা পুলিশ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবে।

এ বিষয়ে রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানার ওসি (তদন্ত) হোসেন আলী জানান, ছাদ থেকে পড়ে নুর আলম নামে এক যুবক মারা গেছে। তাকে ছাদ থেকে ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।  পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কেউ থানায় কোনও অভিযোগ করেনি। মামলা হলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।