রংপুর নগরীর লালবাগ খামার এলাকায় ছাদ থেকে ফেলে নুর আলম নামে এক যুবককে হত্যার অভিযোগে বিক্ষোভ করেছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। মঙ্গলবার (১১ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত নগরীর লালবাগ এলাকার রেলগেট সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন তারা।
স্বজনদের অভিযোগ, নুর আলমকে (২৫) বাসার ছাদ থেকে ফেলে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার বিচার দাবিতে লাশ নিয়ে বিক্ষোভ করেন তারা।
তবে স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সোমবার (১০ এপ্রিল) বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে লালবাগ খামার এলাকায় একটি বাড়িতে আগুন লাগার পর ছাদে উঠে দেখার সময় পড়ে ওই যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই দিন বিকালে দুই পক্ষের সংঘর্ষে পুলিশসহ ১০ জন আহত হন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে নুর আলমের লাশ মঙ্গলবার বিকাল ৪টার দিকে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ। পরে নগরীর চুড়িপট্টি এলাকায় জানাজা হয়। জানাজা শেষে লাশ নিয়ে হত্যায় জড়িতদের গ্রেফতার এবং বিচার দাবিতে লালবাগ এলাকার রেলগেট অবরোধ করেন স্বজন ও এলাকাবাসী। সেখানে তারা বিক্ষোভ করেন। এতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তাদের সরিয়ে দিতে গেলে পুলিশের সঙ্গে আবারও সংঘর্ষ হয়। এ সময় বিক্ষোভকারীদের ছোড়া ইটপাটকেলে পুলিশের এএসআই শরীফুল ইাসলাম ও কনস্টেবল সালাম আহত হন। তাদের মাথা ফেটে গেছে। গুরুতর অবস্থায় তাদের রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। খবর পেয়ে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। রাত ৯টার দিকে সিটি মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা ঘটনাস্থলে এসে বিচারের আশ্বাস দিলে ফিরে যান বিক্ষোভকারীরা।
এ বিষয়ে রংপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজার রহমান বলেন, ‘ওই যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় মামলা হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে লালবাগ খামার তাবলিগ মসজিদের পাশে স্থানীয় ফকির চাঁনের বাড়িতে আগুন লাগে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন বাড়ির বিভিন্ন ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। এতে বাড়ির প্রায় দুই লাখ টাকার মালামালসহ আসবাবপত্র পুড়ে যায়। ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট এসে দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ওই সময় আগুনের দৃশ্য দেখতে লালবাগ চুড়িপট্টি এলাকার লোকজন স্থানীয় মাজেদুল ইসলামের বাড়ির ছাদে ওঠেন। ছাদ থেকে সবাইকে নামতে বললে মাজেদুল ইসলামের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা হয়। এ সময় মাজেদুলের সঙ্গে চুড়িপট্টির লোকজনের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে নুর আলম ছাদ থেকে পড়ে মারা যান। তবে তাকে ছাদ থেকে ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ স্বজনদের।