ঈদে হিলি সীমান্তে দর্শনার্থীর ঢল, মিলিত হতে না পারার আক্ষেপ

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দিনাজপুরের হিলি সীমান্তে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে। কেউ এসেছেন সীমান্তের ওপারে থাকা আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা করতে। কেউবা এসেছেন সীমান্ত এলাকা ঘুরতে। তবে বিজিবির বাধায় সীমান্তে একত্র হতে না পেরে দূর থেকে মনের ভাব প্রকাশ করতে হয়েছে। এতে অনেকের মাঝে আক্ষেপ বিরাজ করছে। অন্তত ঈদের দিনেও সীমান্তে কিছু সময়ের জন্য মিলিত হওয়ার আকুতি ছিল তাদের।

শনিবার (২২ এপ্রিল) সরেজমিনে দেখা যায়, ঈদের নামাজের পর থেকেই দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মোটরসাইকেল, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাস নিয়ে দর্শনার্থীরা হিলি সীমান্তে আসতে ভিড় করতে থাকেন। এ সময় তারা সীমান্ত এলাকা ঘুরে দেখেন এবং ব্রিটিশ আমলে নির্মিত রেললাইন এলাকা ঘুরে দেখেন এবং ছবি-সেলফি তুলে রাখেন। অনেকে তারকাঁটার পাশে দাঁড়িয়ে আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে কথা বলেন।

রংপুরের মিঠাপুকুর থেকে আসা সিরাজুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমি আসছি মূলত হিলি সীমান্ত এলাকা ঘুরে দেখার উদ্দেশ্যে। হিলি সীমান্তে এসে বেশ ভালোই লাগছে। দুদেশের মানুষের উপস্থিতিতে সীমান্ত এলাকায় একটা মিলনমেলার মতো অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তবে সীমান্তের ওপারে পা রাখতে পারলে ভালো লাগতো।

একই এলাকার দর্শনার্থী ইয়াকুব আলী বলেন, আমরা হিলি সীমান্ত এলাকা ঘুরে দেখার জন্য এসেছি। তবে বিজিবি যদি অনুমতি দিতো ভারতে যেতে, তাহলে সবচেয়ে বেশি ভালো লাগতো। তারপরও যতটুকু দেখেছি আমাদের খুব ভালো লেগেছে।

বগুড়া থেকে আসা আব্দুর রশিদ বলেন, আজ ঈদের দিন। তাই সব বন্ধু মিলে মোটরসাইকেল নিয়ে এখানে এসেছি। এখানে এসে ভালোই লাগছে, বিশেষ করে খুব কাছাকাছি দুটি দেশ ভারত ও বাংলাদেশ। আবার সীমান্তের পাশ দিয়েই রেললাইন চলে গেছে। তবে আরো ভালো লাগতো যদি ওপারে যেতে পারতাম। আমাদের তো পাসপোর্ট নেই, যে কারণে ওপারে যেতে পারছি না। বাধ্য হয়ে সীমান্তের এপাশে দাঁড়িয়েই সবকিছু দেখতে হচ্ছে আমাদের।

গাইবান্ধা থেকে আসা অপর দর্শনার্থী সজিব হোসেন বলেন, আমাদের আত্মীয়স্বজন ভারতে রয়েছে। পাসপোর্ট না থাকার কারণে ওপারে যেতে পারছি না, তেমনি তারাও এপারে আসতে পারছে না। এতে দীর্ঘদিন ধরে আমাদের মধ্যে একটা দূরত্ব তৈরি হয়েছে। শুনেছি ঈদের সময় সীমান্তে দেখা করার অনুমতি দেয়, সে কারণেই আজ এসেছি। শুধু হাত নেড়ে মনের ভাব আদান-প্রদান করছি।

বিজিবির হিলি আইসিপি ক্যাম্প কমান্ডার সুবেদার অহিদুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, প্রতিবছরের মতো এবারো ঈদকে ঘিরে সীমান্ত এলাকায় দর্শনার্থীদের সংখ্যা বেশ লক্ষ করা যাচ্ছে। অনুমতি না থাকায় সীমান্তের শূন্যরেখায় তাদের একত্র হতে দেওয়া হচ্ছে না। সীমান্তের রেললাইনের পাশে দাঁড়িয়ে যতটুকু দেখতে পারে, সেটুকু করতে দেওয়া হচ্ছে।

হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ আশরাফুল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে দুদেশের পাসপোর্ট যাত্রীদের পারাপার স্বাভাবিক রয়েছে। তবে ঈদুল ফিতরকে ঘিরে পাসপোর্টধারী যাত্রীর পাশাপাশি সীমান্তের জিরো পয়েন্ট এলাকায় দর্শনার্থীদের সংখ্যা বেড়েছে। অনেকে ভারতে থাকা আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা করতে এসেছে। অনেকে সীমান্ত এলাকা দেখতে এসেছে। আগামী দুই থেকে তিন দিন এমনটা থাকবে বলে আশা করা যাচ্ছে।