রংপুরের পীরগঞ্জ থানার ওসি জাকির হোসেনের ঘুষ নেওয়ার একটি ভিডিও ভাইরালের ঘটনায় পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে সাক্ষ্য দেওয়ায় তিন সাক্ষীসহ কয়েকজনকে আসামি করে একটি চাঁদাবাজি মামলা করিয়েছেন অভিযুক্ত ওসি। অভিযোগ উঠেছে, মামলাটি সাজানো। শুধু তাই নয় তিন সাক্ষীকে ক্রসফায়ারের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
চাঁদাবাজির মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রংপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ( সার্কেল ডি এর প্রধান) কামরুজ্জামান। তিনি জানান, রবিবার মামলাটি হয়েছে। স্বয়ং পুলিশ সুপার মামলার বিষয়টি মনিটরিং করছেন। নিবিড়ভাবে পুরো বিষয়টি মনিটরিং করা হচ্ছে।
এদিকে, পীরগঞ্জ থানার ওসির বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়ার অভিযোগে চাঁদাবাজির মামলায় ফাঁসানোর ঘটনায় রংপুর পুলিশের কর্মকর্তাদের মাঝে তোলপাড় শুরু হয়েছে।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অতিসম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পীরগঞ্জ থানার ওসি জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে বালু ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। এই নিয়ে পুরো জেলাসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন মহলে তোলপাড় শুরু হয়। বিষয়টি জরুরি ভিত্তিতে তদন্তের জন্য অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কামরুজ্জামানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তদন্তকালে ঘুষ প্রদানকারী পীরগঞ্জ উপজেলার তরফমৌজা গ্রামের হাসেন আলীর ছেলে রাসেল এবং প্রত্যক্ষদর্শী জাফরপাড়া গ্রামের আজিজুর রহমানের ছেলে আরিফ ও একই গ্রামের রুহুল আমিনের ছেলে উজ্জল কমিটির কাছে লিখিত জবানবন্দি দিয়েছেন।
এরপর তদন্ত কমিটি প্রাথমিক প্রতিবেদন দাখিলের পর রংপুরের পুলিশ সুপার ফেরদৌস আলী চৌধুরী ওসি জাকির হোসেনকে প্রত্যাহার করে রংপুর পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করার আদেশ দেন। কিন্তু আগামী ১৪ মে পীরগঞ্জ উপজেলার একটি ইউনিয়নের ওয়ার্ডের উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তাই বদলির আদেশ ওই তারিখ পর্যন্ত স্থগিত করা হয়।
এদিকে, পীরগঞ্জ থানার ওসি বদলির আদেশ বাতিল করতে নানান তদবির করেও ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, গত শনিবার লোকজন ভাড়া করে পীরগঞ্জ উপজেলা সদরে তার বদলির আদেশ বাতিল করার দাবিতে মানববন্ধন করানো হয়। কিন্তু এতেও সাড়া না পেয়ে রবিবার রামনাথ ইউনিয়নের আব্দুল্লাপুর গ্রামের ওয়াদুদ খন্দকারের ছেলে বাদল খন্দকারকে দিয়ে থানায় একটি চাঁদাবাজির মামলা করান। সেখানে ওসির বিরুদ্ধে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে দেওয়া তিন জনসহ ছয় জনকে আসামি করা হয়েছে। অথচ মামলার বাদীর বাড়ির দূরত্ব আসামির বাড়ি থেকে ২০ কিলোমিটার দুরে।
আরিফের দাবি, ওসি সাক্ষ্য প্রদানকারী তাকেসহ তিন জনকে গ্রেফতারের জন্য দফায় দফায় তাদের বাড়িতে পুলিশ পাঠিয়ে হয়রানি করছে। শুধু তাই নয়, ১০/১২ দিন ওসির দায়িত্বে থাকবেন আরও অন্তত ১০টি মামলা দেওয়া হবে এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে দেওয়া সাক্ষ্য প্রত্যাহার না করলে তাদের তিন জনকে ক্রসফায়ার করে হত্যার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে। ফলে পুলিশের ভয়ে তারা বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। রবিবার তারা পুরো বিষয় রংপুরের পুলিশ সুপার ফেরদৌস আলী চৌধুরীর কাছে জানানোর জন্য সেখানে গিয়েছিলেন। কিন্তু পুলিশ সুপার জরুরি সভায় ব্যস্ত থাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাজিয়া সুলতানাকে সব জানান।
এ বিষয়ে জানতে পীরগঞ্জ থানার ওসি জাকির হোসেনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও বন্ধ পাওয়া যায়। পীরগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) মাহবুবার রহমানের কাছেও এই বিষয়ে জানতে চাইলে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কামরুজ্জামান বলেন, মামলাটি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কোনও নির্দোষ ব্যক্তি যাতে হয়রানির শিকার না হন সে বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে।