ঘুরতে গেলেই ছিনতাই করে ‘জলিল বিড়ি গ্রুপ’

কুড়িগ্রাম শহরে বিনোদনের কোনও স্থান নেই বললেই চলে। বিনোদনপ্রেমীরা একটু ঘুরতে চাইলে তাদের প্রথম ও একমাত্র ঠিকানা হয়ে দাঁড়ায় শহর থেকে অদূরে ধরলা ব্রিজের পূর্বপ্রান্তের গ্রোয়েন বাঁধ। কিন্তু সম্প্রতি সেখানে গিয়েও শান্তিতে বসতে পারছেন না বিনোদনপ্রেমীরা। বিশেষ করে তরুণ-তরুণী কিংবা বন্ধুদের নিয়ে কেউ সেখানে ঘুরতে গেলে ছিনতাই কিংবা চাঁদাবাজির শিকার হচ্ছেন। ‘জলিল বিড়ি গ্রুপ’ ও ‘সুলকুরবাজার গ্রুপ’ নামে দুটি মাদকসেবী গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে ধরলার পাড়। এই দুই গ্রুপ ধরলা পাড়ের আতঙ্কে পরিণত হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ভুক্তভোগীরা। সোমবার (১২ জুন) একটি ছিনতাইয়ের ঘটনার খবরে ধরলার পাড়ে গেলে এসব তথ্য জানা যায়। 
 
ধরলা ব্রিজের পূর্বপাড়ের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা জানান, সোমবার দুপুরে দুই তরুণীকে নিয়ে এক যুবক ধরলার পূর্বপাড়ে বেড়াতে গেলে ইমন নামে এক মাদকসেবীর নেতৃত্বে তিন যুবক তাদের কাছ থেকে সাত হাজার টাকা ছিনিয়ে নেন। অভিযুক্তরা ‘জলিল বিড়ি গ্রুপের’ সদস্য বলে পরিচিত। পরে ভুক্তভোগী যুবক ফোনে সদর উপজেলা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক রেজভি কবির চৌধুরী বিন্দুসহ পরিচিতজনদের খবর দেন। খবর পেয়ে বিন্দু, শামীম ও ইয়াসিনসহ কয়েকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে ইমন এবং তার সঙ্গীদের খুঁজে বের করেন। তারা ছিনতাই হওয়া সাত হাজার টাকার মধ্যে পাঁচ হাজার টাকা উদ্ধার করতে সক্ষম হন। এরপর ইমন ও তার সহযোগীদের আটক করে পুলিশে দেওয়ার উদ্যোগ নিলে তারা কৌশলে পালিয়ে যায়। ইমনের নামে সদর থানায় চুরি ও ছিনতাইসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে।

সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রেজভি কবির চৌধুরী বিন্দু বলেন, ‘ধরলার পাড়ে কেউ বেড়াতে গেলেই এমন ছিনতাই ও চাঁদাবাজির শিকার হন। সম্প্রতি এটি বেড়ে গেছে। দিনদুপুরে এমন ঘটনা ঘটছে। সেখানে পুরাতন শহরের জলিল বিড়ি মোড়ের মাদকসেবীদের একটি দল ‘জলিল বিড়ি গ্রুপ’ নামে এবং পাঁচগাছী ইউনিয়নের একটি দল ‘সুলকুরবাজার গ্রুপ’ নামে ছিনতাই ও চাঁদাবাজি করছে বলে আমরা জেনেছি। কেউ প্রতিবাদ করলে তারা তাদের ওপর চড়াও হয়। ভয়ে কেউ কিছু না বলে সঙ্গে থাকা টাকা, ফোন কিংবা অলঙ্কার তাদের দিয়ে দিতে বাধ্য হন। সেখানে ঘুরতে যাওয়া ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা দরকার পুলিশের। আমরা বিষয়টি পুলিশকে জানিয়েছি।’

‘জলিল বিড়ি গ্রুপ’ ও ‘সুলকুরবাজার গ্রুপ’ নামে দুটি মাদকসেবী গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে ধরলার পাড়

ধরলা ব্রিজের পূর্বপ্রান্তের কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, বিনোদনপ্রেমীরা আসায় এখানকার ব্যবসায়ীদের ব্যবসা চলে। কিন্তু মাদকসেবীরা প্রতিনিয়ত এখানে ছিনতাই ও চাঁদাবাজি করছে। নেশার টাকা জোগাতে তারা ওতপেতে থাকে। বাঁধে বেড়াতে আসা বন্ধুদের দল কিংবা প্রেমিক-প্রেমিকা পেলে তারা জিম্মি করে চাঁদা নেয়। জলিল বিড়ি গ্রুপ আর সুলকুরবাজার গ্রুপ এখানে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করেছে। নিরাপত্তার অভাবে কয়েকদিন পর এখানে কেউ আসতে চাইবে না। এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।

সোমবার দুপুরে টাকা ছিনতাই ও উদ্ধারের ঘটনায় ব্রিজের পূর্বপাড়ের সড়কে স্থানীয়দের জটলা তৈরি হয়। সে সময় ওই পথ ধরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এ কে এম ওহিদুন্নবী ও সদর থানার ওসি এম আর সাঈদ গাড়িতে করে শহরে ফিরছিলেন। জটলা দেখে তারা গাড়ি থেকে নেমে উপস্থিত লোকদের কাছে ঘটনার বিস্তারিত শোনেন। পরে ছিনতাই-চাঁদাবাজির ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ কে এম ওহিদুন্নবী বলেন, ‘ভুক্তভোগীরা থানায় অভিযোগ দিলে আমরা ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার করবো। পরবর্তীতে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে, সেজন্য পুলিশের টহল জোরদার করা হবে। ইতোমধ্যে সে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’