হাজী দানেশ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের দফায় দফায় সংঘর্ষ, আহত ৩০ 

পূর্ববিরোধের জেরে দিনাজপুরের হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। এতে দুই পক্ষের অন্তত ৩০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। এর মধ্যে বেশ কয়েকজনকে দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে কয়েকজন চিকিৎসা নিয়েছেন।

শনিবার (১৭ জুন) রাত ৯টা থেকে দফায় দফায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ক্যাম্পাসে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা শাখার পরিচালকসহ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কর্মকর্তা ও শিক্ষকবৃন্দ ক্যাম্পাসে অবস্থান করছেন।  

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের রিয়াদ-সজল ও আকাশ গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এর জের ধরে শনিবার বিকালে ছাত্রলীগ নেতা আকাশের সঙ্গে রিয়াদ ও সজলের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে আকাশকে ক্যাম্পাস থেকে তারা বের করে দেন। রাতে আকাশের সমর্থকরা ক্যাম্পাসে ঢুকলে সংঘর্ষ লেগে যায়। সেইসঙ্গে কয়েক দফায় সংঘর্ষ হয়। এতে দুই পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হন। সংঘর্ষের সময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা জিয়া হলে ভাঙচুর চালান। 

দিনাজপুর সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ মোহাম্মদ জিন্নাহ আল মামুন বলেন, ‘ক্যাম্পাসের আশপাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনা যাতে বাইরে ছড়িয়ে না পড়ে, সে বিষয়টি দেখছে পুলিশ। এ ছাড়া ক্যাম্পাসের ভেতরে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে সংঘর্ষের ব্যাপারে পুলিশের হস্তক্ষেপ এখন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের পক্ষ থেকে চাওয়া হয়নি।’ 

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ড. মামুনুর রশিদ বলেন, ‘ভুল–বোঝাবুঝিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।’

ঘটনা সম্পর্কে জানতে ছাত্রলীগ নেতা আকাশের মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে মোবাইল নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। এ নিয়ে রিয়াদ-সজল গ্রুপের কেউ কথা বলতে রাজি হননি।